রাউজানে ইছামতী মাতৃপূজা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সম্পন্ন

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান যুধিষ্টি মহাজন বাড়িতে দুই দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২তম বার্ষিক ইছামতী মাতৃপূজা ও স্মরণোৎসব-২০২৬। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় এক মহামিলন মেলায়, যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ছিল আনন্দঘন পরিবেশ।

পরম কৃপাময়ী শ্রীশ্রী ইছামতী মাতৃদেবীর আরাধনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইছামতী মাতৃপূজা উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, চণ্ডীপাঠ, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং দিনব্যাপী অন্নপ্রসাদ বিতরণ। আয়োজকরা জানান, এ উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

উৎসবের প্রথম দিন (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পূজার মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হয়। বিকেল ৪টায় ঐতিহ্যবাহী কবিগান পরিবেশন করেন শ্রী সঞ্জয় গান্ধী ও শ্রী নিরঞ্জন সরকার, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও পবিত্র ও আবেগঘন। রাত ১০টায় মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় দিন (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় পূজা এবং সকাল ১০টায় বিশ্বশান্তি কামনায় চণ্ডীপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ভোগ ও অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় আরতির মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে রাত ৮টায় ধর্মীয় ব্যান্ড ‘আদ্যাশক্তি’র পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ইছামতী মাতৃপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী বিধান ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ উজ্জ্বল চৈতন্য ব্রহ্মচারী, শিক্ষক প্রকাশ দত্ত, গীতাপাঠক রাখাশ সরকার, গীতা প্রশিক্ষক সুবল শীলসহ বহু সাধু-সন্ন্যাসী ও ধর্মীয় পণ্ডিতবৃন্দ। পূজা ও আরতি পরিচালনা করেন শ্রীমৎ স্বামী বীরপুরুষ ব্রহ্মচারী (রামপ্রসাদ)। অনুষ্ঠানের প্রধান সেবায়েত ছিলেন শ্রী বাবলা সাধু, যিনি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। আয়োজক কমিটির সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইছামতী মাতৃপূজা সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

দুই দিনব্যাপী এই মহতী ধর্মীয় আয়োজন শুধু পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রকাশ। হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতেও এই আয়োজনকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – সীতাকুণ্ডে মা মগধেশ্বরী খোলার বাৎসরিক অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন

রাউজানে ইছামতী মাতৃপূজা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সম্পন্ন

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজান যুধিষ্টি মহাজন বাড়িতে দুই দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২তম বার্ষিক ইছামতী মাতৃপূজা ও স্মরণোৎসব-২০২৬। ১৭ ও ১৮ এপ্রিল আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় এক মহামিলন মেলায়, যেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ছিল আনন্দঘন পরিবেশ।

পরম কৃপাময়ী শ্রীশ্রী ইছামতী মাতৃদেবীর আরাধনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইছামতী মাতৃপূজা উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, চণ্ডীপাঠ, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং দিনব্যাপী অন্নপ্রসাদ বিতরণ। আয়োজকরা জানান, এ উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

উৎসবের প্রথম দিন (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পূজার মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা হয়। বিকেল ৪টায় ঐতিহ্যবাহী কবিগান পরিবেশন করেন শ্রী সঞ্জয় গান্ধী ও শ্রী নিরঞ্জন সরকার, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও পবিত্র ও আবেগঘন। রাত ১০টায় মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় দিন (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় পূজা এবং সকাল ১০টায় বিশ্বশান্তি কামনায় চণ্ডীপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ভোগ ও অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় আরতির মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে রাত ৮টায় ধর্মীয় ব্যান্ড ‘আদ্যাশক্তি’র পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ইছামতী মাতৃপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, শ্রীমৎ স্বামী বিধান ব্রহ্মচারী, শ্রীমৎ উজ্জ্বল চৈতন্য ব্রহ্মচারী, শিক্ষক প্রকাশ দত্ত, গীতাপাঠক রাখাশ সরকার, গীতা প্রশিক্ষক সুবল শীলসহ বহু সাধু-সন্ন্যাসী ও ধর্মীয় পণ্ডিতবৃন্দ। পূজা ও আরতি পরিচালনা করেন শ্রীমৎ স্বামী বীরপুরুষ ব্রহ্মচারী (রামপ্রসাদ)। অনুষ্ঠানের প্রধান সেবায়েত ছিলেন শ্রী বাবলা সাধু, যিনি সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। আয়োজক কমিটির সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইছামতী মাতৃপূজা সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

দুই দিনব্যাপী এই মহতী ধর্মীয় আয়োজন শুধু পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রকাশ। হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতেও এই আয়োজনকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – সীতাকুণ্ডে মা মগধেশ্বরী খোলার বাৎসরিক অনুষ্ঠান ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন