ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নাসিরনগরবাসীর জনজীবন, ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতের পার্থক্য না রেখে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সামগ্রিকভাবে নাসিরনগর লোডশেডিং এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পরই আবার দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য তা বন্ধ হয়ে যায়। দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। রাতেও মিলছে না স্বস্তি গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, অনেকেই গরমে ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়। চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে চার্জ লাইট বা মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে নাসিরনগর লোডশেডিং ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সার্বিকভাবে এই লোডশেডিং এখন জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। অনেক এলাকায় প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে একাধিক এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নাসিরনগর লোডশেডিং সমস্যার কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন –মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং: বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নাসিরনগরবাসীর জনজীবন, ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা

এপ্রিল ২৪, ২০২৬

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতের পার্থক্য না রেখে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলতে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সামগ্রিকভাবে নাসিরনগর লোডশেডিং এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পরই আবার দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য তা বন্ধ হয়ে যায়। দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। রাতেও মিলছে না স্বস্তি গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, অনেকেই গরমে ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়। চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে চার্জ লাইট বা মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎনির্ভর দোকান ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে নাসিরনগর লোডশেডিং ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সার্বিকভাবে এই লোডশেডিং এখন জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। অনেক এলাকায় প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে একাধিক এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও আর্দ্রতার কারণে তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নাসিরনগর লোডশেডিং সমস্যার কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন –মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং: বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি