কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেটের বেহাল দশা: জনদুর্ভোগের প্রতীকে রূপ নিয়েছে লাখ টাকার প্রকল্প

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত একমাত্র কমিউনিটি টয়লেটটি এখন সরাসরি জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। লাখ টাকার সরকারি প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এটি এখন ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই টয়লেট নির্মাণ করে উপজেলা চত্বরে স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ছিল সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু মাত্র চার বছরের মধ্যেই অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

সোমবার (৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ভূমি অফিস, সমাজসেবা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে আসা মানুষদের জন্য থাকা এই টয়লেটটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। ভেতরে মল-মূত্র, প্লাস্টিক, পলিথিন, ইটের টুকরা ও কাদাপানির স্তূপ জমে আছে। দেয়ালে শ্যাওলা জমে কালো দাগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার কারণে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা চত্বরে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য আসেন। কিন্তু একমাত্র এই পাবলিক টয়লেট ব্যবহারযোগ্য না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের জন্য এটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

ফুলবাড়িয়া থেকে আসা সেবাপ্রার্থী রহিমা বেগম বলেন, এখানে আসলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। দুর্গন্ধে দাঁড়ানোই কষ্টকর। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়, যা খুবই অস্বস্তিকর।

মৌচাকের কলেজছাত্র সুমিন মিয়া বলেন, নির্বাচন অফিসে কাজ শেষ করতে কয়েক ঘণ্টা লাগে। কিন্তু টয়লেটের এই অবস্থা দেখে মনে হয় এটি কোনো ব্যবহারযোগ্য জায়গা নয়। কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট যদি এমন থাকে, তাহলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, টয়লেট ভবনের দরজা ভাঙা, ছাদে পানির ট্যাংক থাকলেও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল। চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মেছে, যা জায়গাটিকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নেয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে নির্মাণ শেষে টয়লেটটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার। তবে লোকবল ও তদারকির অভাবে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে তারা স্বীকার করেন।

কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রকৌশলী হরিপদ রায় বলেন, টয়লেটটি বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে জনগণ আবার ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, উপজেলা চত্বরে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট দ্রুত পরিষ্কার, সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আধুনিক স্যানিটেশন সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপজেলা পরিষদে এমন অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

আরোও পড়ুন – গাজীপুরে কিশোরীকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ: হকার ইসমাইল গ্রেফতার

কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেটের বেহাল দশা: জনদুর্ভোগের প্রতীকে রূপ নিয়েছে লাখ টাকার প্রকল্প

মে ৫, ২০২৬

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত একমাত্র কমিউনিটি টয়লেটটি এখন সরাসরি জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। লাখ টাকার সরকারি প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এটি এখন ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই টয়লেট নির্মাণ করে উপজেলা চত্বরে স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ছিল সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু মাত্র চার বছরের মধ্যেই অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

সোমবার (৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিস, ভূমি অফিস, সমাজসেবা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে আসা মানুষদের জন্য থাকা এই টয়লেটটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। ভেতরে মল-মূত্র, প্লাস্টিক, পলিথিন, ইটের টুকরা ও কাদাপানির স্তূপ জমে আছে। দেয়ালে শ্যাওলা জমে কালো দাগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার কারণে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা চত্বরে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য আসেন। কিন্তু একমাত্র এই পাবলিক টয়লেট ব্যবহারযোগ্য না থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের জন্য এটি বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

ফুলবাড়িয়া থেকে আসা সেবাপ্রার্থী রহিমা বেগম বলেন, এখানে আসলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। দুর্গন্ধে দাঁড়ানোই কষ্টকর। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়, যা খুবই অস্বস্তিকর।

মৌচাকের কলেজছাত্র সুমিন মিয়া বলেন, নির্বাচন অফিসে কাজ শেষ করতে কয়েক ঘণ্টা লাগে। কিন্তু টয়লেটের এই অবস্থা দেখে মনে হয় এটি কোনো ব্যবহারযোগ্য জায়গা নয়। কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট যদি এমন থাকে, তাহলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, টয়লেট ভবনের দরজা ভাঙা, ছাদে পানির ট্যাংক থাকলেও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল। চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মেছে, যা জায়গাটিকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নেয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে নির্মাণ শেষে টয়লেটটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পৌরসভার। তবে লোকবল ও তদারকির অভাবে কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে তারা স্বীকার করেন।

কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রকৌশলী হরিপদ রায় বলেন, টয়লেটটি বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে জনগণ আবার ব্যবহার করতে পারে।

অন্যদিকে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, উপজেলা চত্বরে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট দ্রুত পরিষ্কার, সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আধুনিক স্যানিটেশন সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপজেলা পরিষদে এমন অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই কালিয়াকৈর পাবলিক টয়লেট দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।

আরোও পড়ুন – গাজীপুরে কিশোরীকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ: হকার ইসমাইল গ্রেফতার