সাংবাদিক অধিকার দাবি ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং গণমাধ্যমবান্ধব আইন প্রণয়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। আয়োজকরা জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার বিষয় সামনে আনতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের সাংবাদিক সমাজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এখনো তাদের পেশাগত নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও হয়রানির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক সংবাদকর্মী ন্যায্য বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” শুধু কোনো সংগঠনের দাবি নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় বিষয়।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বহু বছর পার হলেও সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর ও যুগোপযোগী সুরক্ষা আইন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা, মামলা ও সামাজিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তারা বলেন, সাংবাদিকদের “জাতির বিবেক” বলা হলেও বাস্তবে তাদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব কমই নেওয়া হয়েছে। এজন্য “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মত দেন বক্তারা।

সমাবেশে দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সাংবাদিক তালিকা তৈরি এবং আধুনিক সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে তৃণমূল সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের কারণে গণমাধ্যমের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গুজব ও অপতথ্যের ঝুঁকিও। তাই সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, তথ্য যাচাই ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী ও জনমুখী হবে।

সমাবেশে গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রেস কাউন্সিলকে আরও আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণমাধ্যম নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমকে টেকসই করতে হলে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন মো. শফিকুল ইসলাম সাইমন, ওমর ফারুক জালাল, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, জহিরুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান মোল্লা, বীথি মোস্তফা ও গাজী মামুনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।

পরে একটি শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্ক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা জানান, সাংবাদিক সমাজের ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাদের মতে, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়ন হলে দেশের গণমাধ্যম আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠবে।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও

সাংবাদিক অধিকার দাবি ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা

মে ৮, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং গণমাধ্যমবান্ধব আইন প্রণয়নের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। আয়োজকরা জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার বিষয় সামনে আনতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের সাংবাদিক সমাজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এখনো তাদের পেশাগত নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও হয়রানির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক সংবাদকর্মী ন্যায্য বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব এবং আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” শুধু কোনো সংগঠনের দাবি নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় বিষয়।

বক্তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বহু বছর পার হলেও সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর ও যুগোপযোগী সুরক্ষা আইন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা, মামলা ও সামাজিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তারা বলেন, সাংবাদিকদের “জাতির বিবেক” বলা হলেও বাস্তবে তাদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব কমই নেওয়া হয়েছে। এজন্য “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মত দেন বক্তারা।

সমাবেশে দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সাংবাদিক তালিকা তৈরি এবং আধুনিক সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে তৃণমূল সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের কারণে গণমাধ্যমের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গুজব ও অপতথ্যের ঝুঁকিও। তাই সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ, তথ্য যাচাই ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম আরও শক্তিশালী ও জনমুখী হবে।

সমাবেশে গণমাধ্যম খাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, প্রেস কাউন্সিলকে আরও আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণমাধ্যম নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমকে টেকসই করতে হলে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন মো. শফিকুল ইসলাম সাইমন, ওমর ফারুক জালাল, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, জহিরুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান মোল্লা, বীথি মোস্তফা ও গাজী মামুনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।

পরে একটি শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্ক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা জানান, সাংবাদিক সমাজের ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তাদের মতে, “সাংবাদিক অধিকার দাবি” বাস্তবায়ন হলে দেশের গণমাধ্যম আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠবে।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও