মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের লক্ষ্য করে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভারতে মুসলিম নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এক মানবাধিকারকর্মী এক বিবৃতিতে জানান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা ও দমন-পীড়ন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে মতপ্রকাশ, ধর্ম পালন ও নিরাপদে বসবাস প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতে মুসলিম নির্যাতন নিয়ে যেসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে, সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তারা বলছেন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ঘৃণামূলক বক্তব্য সহিংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগ বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ভারতে মুসলিম নির্যাতন বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, যেসব পরিবার সহিংসতার শিকার হয়েছে তাদের অনেকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল মহলকে আরও সচেতন হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, সংলাপ ও পারস্পরিক সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় নজরদারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
আরোও পড়ুন – গাজীপুরে তারেক জিয়া সড়ক নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দ্রুত পুনর্বহালের দাবি
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগে উদ্বেগ, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের লক্ষ্য করে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ভারতে মুসলিম নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এক মানবাধিকারকর্মী এক বিবৃতিতে জানান, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা ও দমন-পীড়ন মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে মতপ্রকাশ, ধর্ম পালন ও নিরাপদে বসবাস প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতে মুসলিম নির্যাতন নিয়ে যেসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে, সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তারা বলছেন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ঘৃণামূলক বক্তব্য সহিংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হামলার অভিযোগ বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, ভারতে মুসলিম নির্যাতন বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, যেসব পরিবার সহিংসতার শিকার হয়েছে তাদের অনেকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল মহলকে আরও সচেতন হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তারা মনে করছেন, সংলাপ ও পারস্পরিক সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় নজরদারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
আরোও পড়ুন – গাজীপুরে তারেক জিয়া সড়ক নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দ্রুত পুনর্বহালের দাবি