শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুরো দেশকে কাঁদাচ্ছে। ভয়াবহ আগুনে সন্তানদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে সালাম শিকদার ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম নিজেরাই হয়ে গেলেন দহনক্লান্ত ছাই। গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর নেমে আসে বিভীষিকা। চারদিকে আগুন আর ধোঁয়ার মধ্যে যখন সবাই জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন এই দম্পতি নিজেদের শেষ শক্তি দিয়ে সন্তানদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যান। তাঁদের এই আত্মত্যাগের গল্প এখন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ করেই আগুন লাগে সালাম শিকদারের বসতঘরে। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। পরিবারের সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় কেউ প্রথমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। আগুনের তাপ বাড়তে থাকলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে সন্তানদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম। নিজেদের শরীর আগুনে ঝলসে গেলেও তাঁরা সন্তানদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই হয়ে গেলেন দহনক্লান্ত ছাই।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় ঘরের প্রধান দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। ফলে বের হওয়ার পথ না পেয়ে সবাই চরম বিপদের মধ্যে পড়ে যান। এ অবস্থায় জানালার কাঠামো ভেঙে দুই মেয়ে ও এক নাতিকে বাইরে বের করে দেন সালাম শিকদার ও তাঁর স্ত্রী। আগুনের শিখা তখন পুরো ঘর গ্রাস করে ফেলেছে। সন্তানদের নিরাপদে পাঠাতে সক্ষম হলেও তাঁরা আর নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে বাবা-মায়ের এমন আত্মত্যাগে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

ঘটনার পর পুরো রাধানগর গ্রামে কান্নার রোল পড়ে যায়। প্রতিবেশীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তীব্র আগুনের কারণে কেউ ঘরের কাছে যেতে পারেননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আগুনের ভেতরে সন্তানদের বাঁচানোর যে চেষ্টা সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম করেছেন, তা সত্যিই বিরল। তাঁদের এই মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি বাবা-মায়ের ভালোবাসার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহত পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালাম শিকদার ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। পরিবারের সুখের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমও ছিলেন সংসারমুখী ও স্নেহশীল। এমন একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেরা দহনক্লান্ত ছাই হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এতিম হয়ে যাওয়া শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান। দোহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এদিকে, দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে এখন শুধুই শোকের ছায়া। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম যে ত্যাগের নজির রেখে গেছেন, তা দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের এই আত্মত্যাগ নতুন করে মনে করিয়ে দিল একজন বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের জীবন কতটা মূল্যবান। আগুনের ভয়াবহতায় নিজেরা দহনক্লান্ত ছাই হলেও সন্তানদের জীবনের আলো নিভতে দেননি তাঁরা।
আরোও পড়ুন – তপ্ত দুপুরে কাঁঠালের মিষ্টি ঘ্রাণে জনজীবনে উৎসবের ছোঁয়া
সন্তানদের যমদূত থেকে ছিনিয়ে এনে দহনক্লান্ত ছাই হলেন দম্পতি
শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পুরো দেশকে কাঁদাচ্ছে। ভয়াবহ আগুনে সন্তানদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে সালাম শিকদার ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম নিজেরাই হয়ে গেলেন দহনক্লান্ত ছাই। গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর নেমে আসে বিভীষিকা। চারদিকে আগুন আর ধোঁয়ার মধ্যে যখন সবাই জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন এই দম্পতি নিজেদের শেষ শক্তি দিয়ে সন্তানদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যান। তাঁদের এই আত্মত্যাগের গল্প এখন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ করেই আগুন লাগে সালাম শিকদারের বসতঘরে। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। পরিবারের সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় কেউ প্রথমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। আগুনের তাপ বাড়তে থাকলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে সন্তানদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম। নিজেদের শরীর আগুনে ঝলসে গেলেও তাঁরা সন্তানদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত নিজেরাই হয়ে গেলেন দহনক্লান্ত ছাই।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় ঘরের প্রধান দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। ফলে বের হওয়ার পথ না পেয়ে সবাই চরম বিপদের মধ্যে পড়ে যান। এ অবস্থায় জানালার কাঠামো ভেঙে দুই মেয়ে ও এক নাতিকে বাইরে বের করে দেন সালাম শিকদার ও তাঁর স্ত্রী। আগুনের শিখা তখন পুরো ঘর গ্রাস করে ফেলেছে। সন্তানদের নিরাপদে পাঠাতে সক্ষম হলেও তাঁরা আর নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে বাবা-মায়ের এমন আত্মত্যাগে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

ঘটনার পর পুরো রাধানগর গ্রামে কান্নার রোল পড়ে যায়। প্রতিবেশীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তীব্র আগুনের কারণে কেউ ঘরের কাছে যেতে পারেননি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আগুনের ভেতরে সন্তানদের বাঁচানোর যে চেষ্টা সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম করেছেন, তা সত্যিই বিরল। তাঁদের এই মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি বাবা-মায়ের ভালোবাসার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।
ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহত পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সালাম শিকদার ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। পরিবারের সুখের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমও ছিলেন সংসারমুখী ও স্নেহশীল। এমন একটি পরিবার মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না। সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেরা দহনক্লান্ত ছাই হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি এতিম হয়ে যাওয়া শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান। দোহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এদিকে, দক্ষিণ রাধানগর গ্রামে এখন শুধুই শোকের ছায়া। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম যে ত্যাগের নজির রেখে গেছেন, তা দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের এই আত্মত্যাগ নতুন করে মনে করিয়ে দিল একজন বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের জীবন কতটা মূল্যবান। আগুনের ভয়াবহতায় নিজেরা দহনক্লান্ত ছাই হলেও সন্তানদের জীবনের আলো নিভতে দেননি তাঁরা।
আরোও পড়ুন – তপ্ত দুপুরে কাঁঠালের মিষ্টি ঘ্রাণে জনজীবনে উৎসবের ছোঁয়া