রুয়েট নবীনবরণে উপাচার্যের বার্তা: প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, হতে হবে উদ্ভাবক

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। শনিবার (৯ মে) অনুষ্ঠিত রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা চলছে। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, তোমাদের কাজ হবে বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা। আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবো না, প্রযুক্তি তৈরি করব, প্রযুক্তি রপ্তানি করব। তিনি আরও বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আগামী চার বছরই তোমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো প্রকৌশলী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, শিল্পখাতের অগ্রগতি এবং প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সততা, মানবিকতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তিনি অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে পরিবারের ত্যাগ ও অবদান সবচেয়ে বেশি।

এবারের রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদের ১৪টি বিভাগের মোট ১ হাজার ২৩৫ জন নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১০ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্লাস শুরু হবে। অনুষ্ঠানে ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে র‌্যাগিং ও বুলিংবিরোধী নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা, কাউন্সেলিং এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের শতভাগ এবং ছাত্রদের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। নতুন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক সহায়তায় বিভিন্ন বিভাগে আলাদা মনিটরিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে রুয়েট দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। এছাড়াও ১৪টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রুয়েটের সিএসই, ইইই, সিই ও এমই বিভাগে ১৮০টি করে আসন রয়েছে। এছাড়া এমটিই, সিএমই, আইপিই, এমএসই, ইউআরপি, ইসিই ও ইটিই বিভাগে ৬০টি করে এবং আর্কিটেকচার, সিএইচই ও ইসিএম বিভাগে ৩০টি করে আসন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে রুয়েট ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা এবারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরাও নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন: ইমাম মেহেদীর পরিবর্তনের অঙ্গীকার

রুয়েট নবীনবরণে উপাচার্যের বার্তা: প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, হতে হবে উদ্ভাবক

মে ৯, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। শনিবার (৯ মে) অনুষ্ঠিত রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা চলছে। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, তোমাদের কাজ হবে বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা। আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকবো না, প্রযুক্তি তৈরি করব, প্রযুক্তি রপ্তানি করব। তিনি আরও বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আগামী চার বছরই তোমাদের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো প্রকৌশলী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, শিল্পখাতের অগ্রগতি এবং প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সততা, মানবিকতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তিনি অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সন্তানের এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে পরিবারের ত্যাগ ও অবদান সবচেয়ে বেশি।

এবারের রুয়েট নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদের ১৪টি বিভাগের মোট ১ হাজার ২৩৫ জন নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১০ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্লাস শুরু হবে। অনুষ্ঠানে ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে র‌্যাগিং ও বুলিংবিরোধী নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবীমা, কাউন্সেলিং এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের শতভাগ এবং ছাত্রদের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। নতুন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক সহায়তায় বিভিন্ন বিভাগে আলাদা মনিটরিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে রুয়েট দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। এছাড়াও ১৪টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রুয়েটের সিএসই, ইইই, সিই ও এমই বিভাগে ১৮০টি করে আসন রয়েছে। এছাড়া এমটিই, সিএমই, আইপিই, এমএসই, ইউআরপি, ইসিই ও ইটিই বিভাগে ৬০টি করে এবং আর্কিটেকচার, সিএইচই ও ইসিএম বিভাগে ৩০টি করে আসন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে রুয়েট ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা এবারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরাও নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন: ইমাম মেহেদীর পরিবর্তনের অঙ্গীকার