মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম
“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” এই স্লোগান এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত তিস্তা নদী ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকায় বসবাসরত প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সোমবার দুপুরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের একাধিক ওয়ার্ডের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ে। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী শাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে শত শত একর জমি পুনরুদ্ধার হবে এবং কৃষকরা আবারও চাষাবাদের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি বেকারত্বও কমে আসবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিস্তা পাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হচ্ছে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি মসজিদ সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মনেস্বর মৌজায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ, মন্দির মৌজায় দৌলভ কুটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংস্কার, পাড়া মৌলা মৌজায় অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক লাভলুর বাড়ির সামনের মসজিদ সংস্কার এবং দৌলভ কুটি মৌজায় কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউপি সদস্য রেয়াজুল ইসলামের বাড়ি থেকে আজগারের বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে সিসি ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কৃষকদের কৃষিকাজে সহায়তা দিতে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯টি স্প্রে মেশিনও বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বাজেট দিয়ে সব ধরনের উন্নয়ন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আলাদা থোক বরাদ্দ প্রদান করলে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে।
সভায় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সেফারুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিষদের পক্ষ থেকে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এবার ডিজিটাল স্মার্ট এনআইডি কার্ড যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। অতীতে একই ব্যক্তি একাধিক জনপ্রতিনিধির কাছে এনআইডির কপি জমা দেওয়ায় নানা ধরনের অভিযোগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে অনিয়ম কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ ভিজিএফ সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ রাজিয়া বেগম বলেন, বর্তমানে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা খুবই কম। তিনি জানান, চেয়ারম্যানদের মাসিক সাড়ে ১০ হাজার টাকা এবং ইউপি সদস্যদের সাড়ে ৮ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা দেয়া হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অপ্রতুল। জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিধি বিবেচনায় সরকারিভাবে এই ভাতার পরিমাণ কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরোও পড়ুন – তিস্তা ভাঙন রোধে পলাশপুর রক্ষার দাবি: মানববন্ধন ও সমাবেশে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চল: চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম
মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম
“জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” এই স্লোগান এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত তিস্তা নদী ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকায় বসবাসরত প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সোমবার দুপুরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের একাধিক ওয়ার্ডের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ে। তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী শাসন কার্যক্রমের মাধ্যমে শত শত একর জমি পুনরুদ্ধার হবে এবং কৃষকরা আবারও চাষাবাদের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি বেকারত্বও কমে আসবে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিস্তা পাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হচ্ছে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি মসজিদ সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মনেস্বর মৌজায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ, মন্দির মৌজায় দৌলভ কুটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংস্কার, পাড়া মৌলা মৌজায় অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক লাভলুর বাড়ির সামনের মসজিদ সংস্কার এবং দৌলভ কুটি মৌজায় কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউপি সদস্য রেয়াজুল ইসলামের বাড়ি থেকে আজগারের বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে সিসি ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কৃষকদের কৃষিকাজে সহায়তা দিতে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯টি স্প্রে মেশিনও বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বাজেট দিয়ে সব ধরনের উন্নয়ন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আলাদা থোক বরাদ্দ প্রদান করলে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সহজ হবে।
সভায় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সেফারুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরিষদের পক্ষ থেকে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এবার ডিজিটাল স্মার্ট এনআইডি কার্ড যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। অতীতে একই ব্যক্তি একাধিক জনপ্রতিনিধির কাছে এনআইডির কপি জমা দেওয়ায় নানা ধরনের অভিযোগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো। নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে অনিয়ম কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ ভিজিএফ সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ রাজিয়া বেগম বলেন, বর্তমানে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা খুবই কম। তিনি জানান, চেয়ারম্যানদের মাসিক সাড়ে ১০ হাজার টাকা এবং ইউপি সদস্যদের সাড়ে ৮ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা দেয়া হয়, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অপ্রতুল। জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিধি বিবেচনায় সরকারিভাবে এই ভাতার পরিমাণ কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরোও পড়ুন – তিস্তা ভাঙন রোধে পলাশপুর রক্ষার দাবি: মানববন্ধন ও সমাবেশে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান