মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বিরজলা গ্রামের অসহায় বিধবা নারী নূরজাহান বেগম এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত এই নারী অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্রাউড অফ পটুয়াখালী”। স্থানীয়দের মতে, নূরজাহানের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা না গেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে নূরজাহান বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। ছেলেরা দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও মায়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। কয়েক মাস ধরে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি নিয়মিত কাজকর্ম তো দূরের কথা, বিছানা থেকেও স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশন প্রয়োজন হলেও টাকার অভাবে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, নূরজাহানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
সম্প্রতি নূরজাহান বেগমের অসহায় অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে “প্রাউড অফ পটুয়াখালী” সংগঠনের সদস্যদের। পরে সংগঠনের একদল স্বেচ্ছাসেবক তাঁর বাড়িতে গিয়ে চাল, ডাল, আলু, তেলসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় নূরজাহান বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা জানান, তারা শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, ভবিষ্যতে নূরজাহানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, নূরজাহান বেগমের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় অনেক সময় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন পুরোপুরি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের অনেকেই মানবিক কারণে পাশে দাঁড়ালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর লিভারের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের বিপুল খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নূরজাহানের চিকিৎসা এখন কার্যত থমকে আছে।
“প্রাউড অফ পটুয়াখালী” সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, সমাজে অনেক অসহায় মানুষ নীরবে কষ্ট ভোগ করছেন। নূরজাহান বেগম তাদেরই একজন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই যদি সামান্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে তাঁর চিকিৎসা চালানো সম্ভব হতে পারে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও হৃদয়বান ব্যক্তিদেরও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এই অসহায় মাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন করা হলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে। বর্তমানে নূরজাহান বেগমের পরিবার সমাজের মানবিক মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন এই অসহায় মা।
আরোও পড়ুন – মির্জাগঞ্জে ডাকাত বাবু গ্রেফতার: ১১ মামলার আসামিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক
পটুয়াখালীতে লিভার রোগে অসহায় নূরজাহান, পাশে ‘প্রাউড অফ পটুয়াখালী’
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বিরজলা গ্রামের অসহায় বিধবা নারী নূরজাহান বেগম এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত এই নারী অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্রাউড অফ পটুয়াখালী”। স্থানীয়দের মতে, নূরজাহানের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা না গেলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে নূরজাহান বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। ছেলেরা দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও মায়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাদের নেই। কয়েক মাস ধরে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তিনি নিয়মিত কাজকর্ম তো দূরের কথা, বিছানা থেকেও স্বাভাবিকভাবে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশন প্রয়োজন হলেও টাকার অভাবে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, নূরজাহানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখন সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
সম্প্রতি নূরজাহান বেগমের অসহায় অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে “প্রাউড অফ পটুয়াখালী” সংগঠনের সদস্যদের। পরে সংগঠনের একদল স্বেচ্ছাসেবক তাঁর বাড়িতে গিয়ে চাল, ডাল, আলু, তেলসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় নূরজাহান বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা জানান, তারা শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, ভবিষ্যতে নূরজাহানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, নূরজাহান বেগমের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় অনেক সময় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন পুরোপুরি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের অনেকেই মানবিক কারণে পাশে দাঁড়ালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর লিভারের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের বিপুল খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নূরজাহানের চিকিৎসা এখন কার্যত থমকে আছে।
“প্রাউড অফ পটুয়াখালী” সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, সমাজে অনেক অসহায় মানুষ নীরবে কষ্ট ভোগ করছেন। নূরজাহান বেগম তাদেরই একজন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই যদি সামান্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে তাঁর চিকিৎসা চালানো সম্ভব হতে পারে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও হৃদয়বান ব্যক্তিদেরও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এই অসহায় মাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সহায়তা তহবিল গঠন করা হলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে। বর্তমানে নূরজাহান বেগমের পরিবার সমাজের মানবিক মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো আবারও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন এই অসহায় মা।
আরোও পড়ুন – মির্জাগঞ্জে ডাকাত বাবু গ্রেফতার: ১১ মামলার আসামিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক