হাবিপ্রবিতে হামলার ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ড এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” ইস্যুটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে শহীদ নূর হোসেন হলে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন কক্ষে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নামাজ ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন সহিংস ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা বাড়তে থাকে।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কর্তব্যরত সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে হলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” সিদ্ধান্ত কার্যকর করে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Ordinance of Students Discipline’ এর ১৪ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার প্রথম আলোচ্য বিষয়ের সিদ্ধান্ত এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত আদেশে বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” এখন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এআইই বিভাগের মো. নাইমুর রহমান ও মো. সাজেদুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. তৌহিদুল ইসলাম তূরাগ, শাকির মাহমুদ, দুর্জয় চন্দ্র বর্মন ও মো. সজিব হোসেন, এফপিই বিভাগের মো. আউয়াল মিয়া, মো. আসাদুজ্জামান, মো. ফারিয়াদ হোসেন ও মো. ফয়সাল আহমেদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মার্কেটিং, সিএসই, ইসিই, গণিত, ডিভিএম, কৃষি, পদার্থবিজ্ঞান, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, মৎস্যবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের আরও বহু শিক্ষার্থী এই বহিষ্কারাদেশের আওতায় পড়েছেন। প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কঠোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, সহিংসতা ও হলভিত্তিক দখল রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আবাসিক হলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবিতে দিনব্যাপী ‘Axiom Camp 1.0’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

হাবিপ্রবিতে হামলার ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য

মে ২২, ২০২৬

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতের জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ড এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” ইস্যুটি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে শহীদ নূর হোসেন হলে প্রবেশ করে। এরপর তারা সেখানে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন কক্ষে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা তাণ্ডব চালিয়ে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নামাজ ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন সহিংস ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা বাড়তে থাকে।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কর্তব্যরত সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে হলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” সিদ্ধান্ত কার্যকর করে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Ordinance of Students Discipline’ এর ১৪ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ধারায় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার প্রথম আলোচ্য বিষয়ের সিদ্ধান্ত এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত আদেশে বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” এখন ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এআইই বিভাগের মো. নাইমুর রহমান ও মো. সাজেদুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. তৌহিদুল ইসলাম তূরাগ, শাকির মাহমুদ, দুর্জয় চন্দ্র বর্মন ও মো. সজিব হোসেন, এফপিই বিভাগের মো. আউয়াল মিয়া, মো. আসাদুজ্জামান, মো. ফারিয়াদ হোসেন ও মো. ফয়সাল আহমেদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মার্কেটিং, সিএসই, ইসিই, গণিত, ডিভিএম, কৃষি, পদার্থবিজ্ঞান, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, মৎস্যবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের আরও বহু শিক্ষার্থী এই বহিষ্কারাদেশের আওতায় পড়েছেন। প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কঠোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, সহিংসতা ও হলভিত্তিক দখল রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আবাসিক হলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক “হাবিপ্রবি বহিষ্কার” ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবিতে দিনব্যাপী ‘Axiom Camp 1.0’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত