পাটগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশকালে ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে বিজিবির ফাঁকা গুলি, এলাকায় উত্তেজনা

সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh) বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গিয়ারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রংপুর ব্যাটালিয়নের ৫১ বিজিবির অধীন কলসিমুখ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে টহলরত বিজিবি সদস্যরা মেইন পিলার ৮০৬ সংলগ্ন এলাকায় একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। এ সময় ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়।

টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা নির্দেশ অমান্য করে উল্টো বিজিবি সদস্যদের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আত্মরক্ষার্থে এবং চোরাকারবারিদের ছত্রভঙ্গ করতে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এই বিজিবি ফাঁকা গুলি মুহূর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।

গুলির শব্দ শুনে চোরাকারবারিরা দ্রুত তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে রেখে ভারতের ভূখণ্ডের ভেতরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ফেলে যাওয়া মালামাল জব্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকেও সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে সীমান্তে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিজিবি ফাঁকা গুলি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ

পাটগ্রাম সীমান্তে অনুপ্রবেশকালে ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে বিজিবির ফাঁকা গুলি, এলাকায় উত্তেজনা

মে ২২, ২০২৬

সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh) বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গিয়ারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রংপুর ব্যাটালিয়নের ৫১ বিজিবির অধীন কলসিমুখ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে টহলরত বিজিবি সদস্যরা মেইন পিলার ৮০৬ সংলগ্ন এলাকায় একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে। এ সময় ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়।

টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা নির্দেশ অমান্য করে উল্টো বিজিবি সদস্যদের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আত্মরক্ষার্থে এবং চোরাকারবারিদের ছত্রভঙ্গ করতে টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এই বিজিবি ফাঁকা গুলি মুহূর্তেই পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।

গুলির শব্দ শুনে চোরাকারবারিরা দ্রুত তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে রেখে ভারতের ভূখণ্ডের ভেতরে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ফেলে যাওয়া মালামাল জব্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকেও সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে সীমান্তে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিজিবি ফাঁকা গুলি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ