তিনি কথা রেখেছেন, রাজনৈতিক দৃঢ়তায় বীরের বেশে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান

নিউজ ডেস্কঃ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবেগ ও প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে বারোটার দিকে লন্ডন থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটেই তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরেন তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান । বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পাশাপাশি দীর্ঘ ভালোবাসার অনুভূতিও বহন করে।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুলেট প্রুফ গাড়িতে করে তারেক রহমান রওনা হন নির্ধারিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, যা সাধারণভাবে তিনশ ফিট সড়ক নামে পরিচিত, তার কাছাকাছি এলাকায় এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের বক্তব্য যাতে সবাই একসঙ্গে দেখতে ও শুনতে পারেন, সে জন্য পুরো এলাকায় ৩০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ শতাধিক মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে শব্দ পৌঁছায় দূরদূরান্তে। গুলশান, বনানী, বিমানবন্দর এলাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও বক্তব্য সরাসরি দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়।

এই আয়োজন কেবল একটি রাজনৈতিক সংবর্ধনা নয়, বরং বিএনপির জন্য এটি ছিল দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দলটির নেতাকর্মীদের কাছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নতুন করে সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তা বহন করে। মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং রাজনীতির মাঠে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিবেন। বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও দলীয় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে । উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য কেবল প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

৩০০ ফিটের অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান যাবেন বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ করবেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ সৃষ্টি করবে বলে মনে হচ্ছে । উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা যাবেন গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে। আপাতত সেখানেই তারা অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। এই বাসভবনকে কেন্দ্র করেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তিনি কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, দলকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেবেন—এসব প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী রাজনীতির গতিপথেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, এই প্রত্যাবর্তন দলীয় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে দেখছেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার স্বদেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত বা দলীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। আগামী দিনে তার ভূমিকা কী হবে এবং দেশের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তিনি কথা রেখেছেন, রাজনৈতিক দৃঢ়তায় বীরের বেশে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নধর্মী আবেগ ও প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ সময় বেলা পৌনে বারোটার দিকে লন্ডন থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটেই তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরেন তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান । বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পাশাপাশি দীর্ঘ ভালোবাসার অনুভূতিও বহন করে।

বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুলেট প্রুফ গাড়িতে করে তারেক রহমান রওনা হন নির্ধারিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, যা সাধারণভাবে তিনশ ফিট সড়ক নামে পরিচিত, তার কাছাকাছি এলাকায় এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের বক্তব্য যাতে সবাই একসঙ্গে দেখতে ও শুনতে পারেন, সে জন্য পুরো এলাকায় ৩০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ শতাধিক মাইকের ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে শব্দ পৌঁছায় দূরদূরান্তে। গুলশান, বনানী, বিমানবন্দর এলাকা এবং যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও বক্তব্য সরাসরি দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়।

এই আয়োজন কেবল একটি রাজনৈতিক সংবর্ধনা নয়, বরং বিএনপির জন্য এটি ছিল দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দলটির নেতাকর্মীদের কাছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নতুন করে সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তা বহন করে। মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং রাজনীতির মাঠে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিবেন। বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও দলীয় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে । উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য কেবল প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

৩০০ ফিটের অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান যাবেন বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ করবেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর মা-ছেলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ সৃষ্টি করবে বলে মনে হচ্ছে । উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা যাবেন গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে। আপাতত সেখানেই তারা অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। এই বাসভবনকে কেন্দ্র করেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তিনি কীভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, দলকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেবেন—এসব প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী রাজনীতির গতিপথেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, এই প্রত্যাবর্তন দলীয় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে দেখছেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার স্বদেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত বা দলীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। আগামী দিনে তার ভূমিকা কী হবে এবং দেশের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।