হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার, বিশেষ অভিযানে আটক ২

আসলাম উদ্দিন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক কারবার রোধে পুলিশের এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) রাতের দিকে উপজেলার ৩ নম্বর আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই (মাঠপাড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাকিমপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আমিরুল ইসলামের বসতবাড়ির সামনের ফাঁকা স্থান থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৪০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার অভিযানের পর এলাকায় মাদক কারবার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযানের সময় আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার পলাতক আসামি মোছাঃ ফেরদৌসি পারভীন (৩৫) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আটক আমিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৌর শহরের মধ্যবাসুদেবপুর (মাঠপাড়া) এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোঃ রাসেল মন্ডল (২৭) নামে এক যুবককে তার ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সেই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আমিরুল ইসলাম (৪৪) উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। অপরদিকে রাসেল মন্ডল পৌর শহরের মধ্যবাসুদেবপুর এলাকার হানিফ মন্ডলের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল এবং স্থানীয়ভাবে তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে হাকিমপুর থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার, বিশেষ অভিযানে আটক ২

মে ৮, ২০২৬

আসলাম উদ্দিন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি মাদক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক কারবার রোধে পুলিশের এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) রাতের দিকে উপজেলার ৩ নম্বর আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই (মাঠপাড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাকিমপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আমিরুল ইসলামের বসতবাড়ির সামনের ফাঁকা স্থান থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৪০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার অভিযানের পর এলাকায় মাদক কারবার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযানের সময় আমিরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার পলাতক আসামি মোছাঃ ফেরদৌসি পারভীন (৩৫) কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আটক আমিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৌর শহরের মধ্যবাসুদেবপুর (মাঠপাড়া) এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোঃ রাসেল মন্ডল (২৭) নামে এক যুবককে তার ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সেই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আমিরুল ইসলাম (৪৪) উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। অপরদিকে রাসেল মন্ডল পৌর শহরের মধ্যবাসুদেবপুর এলাকার হানিফ মন্ডলের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল এবং স্থানীয়ভাবে তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে হাকিমপুর থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। হাকিমপুরে টাপেন্টাডল উদ্ধার ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার