মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া, চাঁদা দাবি, হামলা-ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চিতলমারী উপজেলার কুরমনি গ্রামের বাসিন্দা লিটন বড়াল। তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিটন বড়াল। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

লিটন বড়াল বলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত প্রতুল কুমার বড়ালের একমাত্র ছেলে। বাবার রেখে যাওয়া ফসলি জমি চাষাবাদ করেই তাদের সংসার চলে। চলতি বোরো মৌসুমে কুরমনি মৌজার ৫৬৩ দাগের ১৮৩ নম্বর খতিয়ানের জমিতে তিনি ধান আবাদ করেন। গত ৬ মে দুপুরে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম খানের বড় ভাই লতিফ খান ৭ থেকে ৮ জন লোক নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধান কাটার সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। শুধু তাই নয়, জমির কাছে গেলে পুড়িয়ে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি পরিবারকে দেশ ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন লিটন বড়াল। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তার পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে লিটন বড়াল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এরপরও একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান দুর্বল হওয়ায় একটি মহল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট লতিফ খান তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন লিটন বড়াল। হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, দোকানের মালামাল লুটপাট এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

লিটন বড়াল আরও জানান, ২০২৫ সালের ২ আগস্ট চিতলমারী থানার পাশের তার মালিকানাধীন মার্কেটে তালা লাগিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম খানের চাচাতো ভাই বাসার খান এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মার্কেটের তালা খুলে দেওয়া হলেও হুমকি-ধামকি থেমে নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি রক্ষায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন বড়াল দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। শুধুমাত্র সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে নানা চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের জায়গা-জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিটন বড়ালের বোন সুমা বড়াল, দুই ছেলে ভ্যালেনটাইন বড়াল ও নক্ষত্র বড়াল। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

আরোও পড়ুন – ময়মনসিংহ-২ এমপির সংবাদ সম্মেলন, এমপির অভিযোগে উত্তাপ

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মে ৮, ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পাকা ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়া, চাঁদা দাবি, হামলা-ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চিতলমারী উপজেলার কুরমনি গ্রামের বাসিন্দা লিটন বড়াল। তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিটন বড়াল। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

লিটন বড়াল বলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত প্রতুল কুমার বড়ালের একমাত্র ছেলে। বাবার রেখে যাওয়া ফসলি জমি চাষাবাদ করেই তাদের সংসার চলে। চলতি বোরো মৌসুমে কুরমনি মৌজার ৫৬৩ দাগের ১৮৩ নম্বর খতিয়ানের জমিতে তিনি ধান আবাদ করেন। গত ৬ মে দুপুরে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম খানের বড় ভাই লতিফ খান ৭ থেকে ৮ জন লোক নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক পাকা ধান কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধান কাটার সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। শুধু তাই নয়, জমির কাছে গেলে পুড়িয়ে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি পরিবারকে দেশ ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন লিটন বড়াল। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় তার পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে লিটন বড়াল বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এরপরও একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, তার পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান দুর্বল হওয়ায় একটি মহল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট লতিফ খান তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন লিটন বড়াল। হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, দোকানের মালামাল লুটপাট এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

লিটন বড়াল আরও জানান, ২০২৫ সালের ২ আগস্ট চিতলমারী থানার পাশের তার মালিকানাধীন মার্কেটে তালা লাগিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম খানের চাচাতো ভাই বাসার খান এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মার্কেটের তালা খুলে দেওয়া হলেও হুমকি-ধামকি থেমে নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি রক্ষায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন বড়াল দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। শুধুমাত্র সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে নানা চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের জায়গা-জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লিটন বড়ালের বোন সুমা বড়াল, দুই ছেলে ভ্যালেনটাইন বড়াল ও নক্ষত্র বড়াল। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

আরোও পড়ুন – ময়মনসিংহ-২ এমপির সংবাদ সম্মেলন, এমপির অভিযোগে উত্তাপ