কানাইঘাটে ২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকায় নকলা খাল খনন কাজের শুভ উদ্বোধন

মিজানুর রহমান (লাভলু)সিলেটঃ

কানাইঘাট উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে প্রায় ২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত নকলা খাল খনন প্রকল্প। কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নকলাখালের আমরী সুইচ গেইট থেকে কৃষ্ণপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নকলা খাল খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে এই নকলা খাল খনন প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নকলা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহদী হাসান শাকিল। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুবল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা জামাল উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বারসহ আরও অনেকে। এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে নকলা খাল খনন কার্যক্রমকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় এই নকলা খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে এলাকার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫৩৫ জন শ্রমিক দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করছেন, যাদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হবে। এই নকলা খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমে যাবে এবং কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নকলা খাল খনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং হাওড় অঞ্চলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমবে এবং ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে সারা বছর পানির প্রবাহ থাকায় কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কানাইঘাটের অন্যান্য খালও পর্যায়ক্রমে নকলা খাল খনন মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নকলা খাল খনন প্রকল্প দীর্ঘদিনের একটি জনদাবি ছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কাজটি সঠিকভাবে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে কানাইঘাটের কৃষি খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় কুতুবআলী একাডেমিতে প্রধান শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা

কানাইঘাটে ২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকায় নকলা খাল খনন কাজের শুভ উদ্বোধন

মে ৮, ২০২৬

মিজানুর রহমান (লাভলু)সিলেটঃ

কানাইঘাট উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে প্রায় ২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত নকলা খাল খনন প্রকল্প। কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নকলাখালের আমরী সুইচ গেইট থেকে কৃষ্ণপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নকলা খাল খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে এই নকলা খাল খনন প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নকলা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহদী হাসান শাকিল। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুবল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা জামাল উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বারসহ আরও অনেকে। এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে নকলা খাল খনন কার্যক্রমকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় এই নকলা খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে এলাকার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৫৩৫ জন শ্রমিক দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করছেন, যাদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ঘনমিটার মাটি অপসারণ করা হবে। এই নকলা খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা কমে যাবে এবং কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নকলা খাল খনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং হাওড় অঞ্চলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমবে এবং ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে সারা বছর পানির প্রবাহ থাকায় কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কানাইঘাটের অন্যান্য খালও পর্যায়ক্রমে নকলা খাল খনন মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নকলা খাল খনন প্রকল্প দীর্ঘদিনের একটি জনদাবি ছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কাজটি সঠিকভাবে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে কানাইঘাটের কৃষি খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় কুতুবআলী একাডেমিতে প্রধান শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা