ঝিনাইদহের মহেশপুরে অতি বৃষ্টিতে ব্যাপক ধানের ক্ষতি, কৃষকের দুশ্চিন্তা চরমে

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় গত ৮ মে রাতে অতি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ব্যাপক ধানের ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হওয়ায় কৃষকেরা যখন বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আকস্মিক এই দুর্যোগ পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দেয়। মাঠে কাটা ও আধাকাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় বড় ধরনের ধানের ক্ষতি দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের সারাবছরের পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রাতভর ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। যারা ধান কেটে মাঠে রেখে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই ফসল সম্পূর্ণ ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধানের ক্ষতি হয়েছে। কিছু কৃষক আবার নতুন করে ধান কাটার চেষ্টা করলেও কাদা ও পানি জমে থাকায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মাঠ থেকে ধান বাড়িতে নিতে অতিরিক্ত শ্রমিক ও যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ভেজা ধান ও কাদামাটির কারণে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতি কৃষকদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে ধানের ক্ষতি আরও গভীর হচ্ছে।

এলাকার কৃষকেরা জানান, শুধু ধান নয়, ধানের খড় বা বিচালিও ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এই খড় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন খড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বাইরে থেকে বেশি দামে পশুখাদ্য কিনতে হবে। এতে করে কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো দ্বিগুণ সংকটে পড়েছে এবং ধানের ক্ষতি শুধুমাত্র ফসলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পুরো কৃষি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, মহেশপুরের অধিকাংশ পরিবার এই সময়ের ফসলের উপর নির্ভরশীল। তাই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। অনেক কৃষক আশাবাদী হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও কঠিন। যারা কিছুটা ফসল উদ্ধার করতে পারছেন, তারাও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। সব মিলিয়ে এই এলাকায় ধানের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – রাজিবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট, ৪০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতি

ঝিনাইদহের মহেশপুরে অতি বৃষ্টিতে ব্যাপক ধানের ক্ষতি, কৃষকের দুশ্চিন্তা চরমে

মে ৯, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় গত ৮ মে রাতে অতি বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ব্যাপক ধানের ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হওয়ায় কৃষকেরা যখন বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আকস্মিক এই দুর্যোগ পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দেয়। মাঠে কাটা ও আধাকাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় বড় ধরনের ধানের ক্ষতি দেখা দিয়েছে, যা কৃষকদের সারাবছরের পরিশ্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রাতভর ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। যারা ধান কেটে মাঠে রেখে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই ফসল সম্পূর্ণ ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধানের ক্ষতি হয়েছে। কিছু কৃষক আবার নতুন করে ধান কাটার চেষ্টা করলেও কাদা ও পানি জমে থাকায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মাঠ থেকে ধান বাড়িতে নিতে অতিরিক্ত শ্রমিক ও যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা ভেজা ধান ও কাদামাটির কারণে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতি কৃষকদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে ধানের ক্ষতি আরও গভীর হচ্ছে।

এলাকার কৃষকেরা জানান, শুধু ধান নয়, ধানের খড় বা বিচালিও ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এই খড় গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখন খড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বাইরে থেকে বেশি দামে পশুখাদ্য কিনতে হবে। এতে করে কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো দ্বিগুণ সংকটে পড়েছে এবং ধানের ক্ষতি শুধুমাত্র ফসলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পুরো কৃষি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, মহেশপুরের অধিকাংশ পরিবার এই সময়ের ফসলের উপর নির্ভরশীল। তাই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। অনেক কৃষক আশাবাদী হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও কঠিন। যারা কিছুটা ফসল উদ্ধার করতে পারছেন, তারাও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। সব মিলিয়ে এই এলাকায় ধানের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – রাজিবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট, ৪০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতি