মুহাঃ এনামুল আহাদ (এনাম)
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (০৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভয়াবহ এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়গ্রাম থেকে মানিকগঞ্জগামী একটি কংক্রিটবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৬০৫৯) উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ১৫০ সিসি জিক্সার মোটরসাইকেলের (মানিকগঞ্জ-ল ১২-৭১০১) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় আলম (১৬) নামের এক কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় কালু মিয়া (১৬) ও মোটরসাইকেল চালক সোনা মিয়া (২২)-কে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে কালু মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোনা মিয়াও মারা যান। একই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। হাসপাতালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা রোধে ওই এলাকায় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি মুখোমুখি সংঘর্ষ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই দ্রুতগতির ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ছোট যানবাহনের চালকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানো হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তারা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। ভয়াবহ এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতিই সড়কে প্রাণহানির অন্যতম কারণ।
আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জ বাস দুর্ঘটনা: অল্পের জন্য রক্ষা, কয়েকজন আহত
সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরসহ নিহত ৩
মুহাঃ এনামুল আহাদ (এনাম)
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (০৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভয়াবহ এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়গ্রাম থেকে মানিকগঞ্জগামী একটি কংক্রিটবোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ১২-৬০৫৯) উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ১৫০ সিসি জিক্সার মোটরসাইকেলের (মানিকগঞ্জ-ল ১২-৭১০১) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় আলম (১৬) নামের এক কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় কালু মিয়া (১৬) ও মোটরসাইকেল চালক সোনা মিয়া (২২)-কে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে কালু মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোনা মিয়াও মারা যান। একই মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনের মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। হাসপাতালে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা রোধে ওই এলাকায় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি মুখোমুখি সংঘর্ষ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, উত্তর পাড়তিল্লী বিলপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই দ্রুতগতির ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ছোট যানবাহনের চালকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে স্পিড ব্রেকার স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানো হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তারা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। ভয়াবহ এই সাটুরিয়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, অসচেতনতা ও বেপরোয়া গতিই সড়কে প্রাণহানির অন্যতম কারণ।
আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জ বাস দুর্ঘটনা: অল্পের জন্য রক্ষা, কয়েকজন আহত