রাজশাহীর বাঘায় ফেনসিডিলসহ যুবক গ্রেফতার, র‍্যাব-৫ এর অভিযানে উদ্ধার ২৫ বোতল

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। শুক্রবার ভোররাতে পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ফেনসিডিল, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড। র‍্যাব-৫ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি বিরুদ্ধে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পরই পরিচালনা করা হয় এই অভিযান। সম্প্রতি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার ও মাদক বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ৯ মে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে বাঘা থানাধীন ভানুকর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ভানুকর গ্রামের মজিবুর রহমান আকালের ছেলে মোঃ রাব্বুল হোসেন সোহাগ (২১) এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির লাকড়ির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করা হয়। র‍্যাবের দাবি, বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার অভিযানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাব্বুল হোসেন সোহাগ স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে বাঘাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল। উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলগুলোও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিল বলে জানায় সে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় গোপনে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেত না। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার বাড়তে থাকায় প্রশাসনের এমন অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝেও স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে।

র‍্যাব-৫ এর মিডিয়া অফিসার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু মাদক নয়, জঙ্গিবাদ, অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, অপহরণ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র‍্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা রুখে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক কারবার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রাজশাহীর বাঘায় ফেনসিডিলসহ যুবক গ্রেফতার, র‍্যাব-৫ এর অভিযানে উদ্ধার ২৫ বোতল

মে ৯, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৫)। শুক্রবার ভোররাতে পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ফেনসিডিল, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড। র‍্যাব-৫ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি বিরুদ্ধে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর পরই পরিচালনা করা হয় এই অভিযান। সম্প্রতি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার ও মাদক বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫ এর সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ৯ মে ভোর ৪টা ২০ মিনিটে বাঘা থানাধীন ভানুকর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ভানুকর গ্রামের মজিবুর রহমান আকালের ছেলে মোঃ রাব্বুল হোসেন সোহাগ (২১) এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির লাকড়ির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করা হয়। র‍্যাবের দাবি, বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার অভিযানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাব্বুল হোসেন সোহাগ স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে বাঘাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল। উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলগুলোও বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিল বলে জানায় সে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় গোপনে মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেত না। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার বাড়তে থাকায় প্রশাসনের এমন অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝেও স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে।

র‍্যাব-৫ এর মিডিয়া অফিসার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শুধু মাদক নয়, জঙ্গিবাদ, অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, অপহরণ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র‍্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা রুখে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বাঘায় ফেনসিডিল উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর বাঘা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক কারবার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র‌্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার