কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, রংপুরঃ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কদমতলা স্মৃতি পাড়া এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধরলা ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের কয়েকশ পরিবার। শনিবার সকাল ১১টায় ধরলা নদীর বাম তীরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কদমতলা স্মৃতি পাড়া সংলগ্ন ধরলা নদীর বাম তীরের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ভাঙনের গতি আরও বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, কাঁচা-পাকা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ধরলা ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর অন্যান্য অংশে ভাঙনরোধে কাজ করলেও কদমতলার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রকল্প অনুমোদনের ধীরগতির কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হয়।

সমাজসেবক শাহানুর রহমান সৈকত বলেন, “আমরা বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।” এসময় এনসিপি পাঁচগাছি ইউনিয়নের সদস্য সচিব মোঃ রাশেদ খান মিলন, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, এনামুল হক, ইয়াকুব আলী ও আকতারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, বর্তমানে যে হারে ধরলা ভাঙন এগিয়ে আসছে তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদীপাড়ের অনেকে ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন অনেক পরিবার।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি থেকে কদমতলা এলাকাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি

কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

মে ১৬, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, রংপুরঃ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কদমতলা স্মৃতি পাড়া এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধরলা ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের কয়েকশ পরিবার। শনিবার সকাল ১১টায় ধরলা নদীর বাম তীরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কদমতলা স্মৃতি পাড়া সংলগ্ন ধরলা নদীর বাম তীরের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ভাঙনের গতি আরও বেড়ে যাওয়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, কাঁচা-পাকা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় ধরলা ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর অন্যান্য অংশে ভাঙনরোধে কাজ করলেও কদমতলার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রকল্প অনুমোদনের ধীরগতির কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাতে হয়।

সমাজসেবক শাহানুর রহমান সৈকত বলেন, “আমরা বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।” এসময় এনসিপি পাঁচগাছি ইউনিয়নের সদস্য সচিব মোঃ রাশেদ খান মিলন, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, এনামুল হক, ইয়াকুব আলী ও আকতারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, বর্তমানে যে হারে ধরলা ভাঙন এগিয়ে আসছে তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদীপাড়ের অনেকে ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন অনেক পরিবার।

মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে নদীপাড়ের মানুষকে রক্ষার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি থেকে কদমতলা এলাকাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি