কুড়িগ্রামে নূরে মদিনা একাডেমিতে এখন ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী

মোঃ সাইফুর রহমান (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রাম পৌরসভার পূর্ব মুন্সিপাড়ায় ২০১২ সালে মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা নূরে মদিনা একাডেমি বর্তমানে জেলার পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় থাকায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা ও পাঠদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে শুধুমাত্র হিফজ শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে এখানে আরবি শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষাও চালু রয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক দুই ব্যবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ড পরিচালিত নূরে মদিনা শিশু একাডেমির অধীনে প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতেই এই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে নূরে মদিনা একাডেমি-তে প্রায় ৪২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি শাখাও চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আসছে। আবাসিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ থাকায় অভিভাবকদের আস্থাও বাড়ছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত পরিবেশে গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানে সন্তান অধ্যয়নরত কয়েকজন অভিভাবক জানান, বর্তমানে সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা বলেন, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের তদারকি এবং আবাসিক সুবিধা থাকায় সন্তানদের নিয়ে তারা স্বস্তিতে আছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা দিন দিন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলহাজ্ব হাফেজ মুহাম্মদ আকরাম হুসাঈন বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাধারণ শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সংযোজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে সচেতন ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া নূরে মদিনা একাডেমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শৃঙ্খলাবোধ এবং ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজে শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান

কুড়িগ্রামে নূরে মদিনা একাডেমিতে এখন ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী

মে ১৬, ২০২৬

মোঃ সাইফুর রহমান (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রাম পৌরসভার পূর্ব মুন্সিপাড়ায় ২০১২ সালে মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা নূরে মদিনা একাডেমি বর্তমানে জেলার পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এখন প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় থাকায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা ও পাঠদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে শুধুমাত্র হিফজ শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে এখানে আরবি শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষাও চালু রয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক দুই ব্যবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ড পরিচালিত নূরে মদিনা শিশু একাডেমির অধীনে প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতেই এই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে নূরে মদিনা একাডেমি-তে প্রায় ৪২ জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি শাখাও চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আসছে। আবাসিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তদারকি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ থাকায় অভিভাবকদের আস্থাও বাড়ছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত পরিবেশে গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানে সন্তান অধ্যয়নরত কয়েকজন অভিভাবক জানান, বর্তমানে সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা বলেন, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের তদারকি এবং আবাসিক সুবিধা থাকায় সন্তানদের নিয়ে তারা স্বস্তিতে আছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা দিন দিন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলহাজ্ব হাফেজ মুহাম্মদ আকরাম হুসাঈন বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাধারণ শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সংযোজন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে সচেতন ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া নূরে মদিনা একাডেমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা কুড়িগ্রামের শিক্ষা অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শৃঙ্খলাবোধ এবং ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজে শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান