লালপুরে ওয়ালটন শোরুমে কিশোর কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোঃআইয়ুবআলী,​লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলার ধুপাইল এলাকায় ওয়ালটন শোরুমের এক কিশোর কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শুভ ইসলাম (১৪) বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন ও খাদিজা বেগমের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ধুপাইল এলাকার একটি ওয়ালটন শোরুমে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল এবং শোরুম মালিকের বাড়িতেই অবস্থান করত। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শুভ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর অনেক সময় পার হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজন প্রথমে ধারণা করেন, সে হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের তীরের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় শুভর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে কিশোর বয়সে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, শুভ শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল এবং নিয়মিত শোরুমের কাজ করত। হঠাৎ এমন ঘটনায় তারা বিস্মিত ও হতবাক। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত শুভ কয়েক মাস ধরে ওই শোরুমে কাজ করছিল। পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য অল্প বয়সেই তাকে কাজ নিতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ছেলেটি সম্প্রতি কিছুটা মানসিক চাপে ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ১ জন আটক ও মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড

লালপুরে ওয়ালটন শোরুমে কিশোর কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মে ১৮, ২০২৬

মোঃআইয়ুবআলী,​লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলার ধুপাইল এলাকায় ওয়ালটন শোরুমের এক কিশোর কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শুভ ইসলাম (১৪) বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন ও খাদিজা বেগমের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ধুপাইল এলাকার একটি ওয়ালটন শোরুমে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল এবং শোরুম মালিকের বাড়িতেই অবস্থান করত। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শুভ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর অনেক সময় পার হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজন প্রথমে ধারণা করেন, সে হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছে। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও সাড়া না পেয়ে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের তীরের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় শুভর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।

খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে কিশোর বয়সে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, শুভ শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল এবং নিয়মিত শোরুমের কাজ করত। হঠাৎ এমন ঘটনায় তারা বিস্মিত ও হতবাক। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত শুভ কয়েক মাস ধরে ওই শোরুমে কাজ করছিল। পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য অল্প বয়সেই তাকে কাজ নিতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ছেলেটি সম্প্রতি কিছুটা মানসিক চাপে ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লালপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ১ জন আটক ও মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড