মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১নং রণগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ এবং বিস্তীর্ণ জনপদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দ্রুত সিসি ব্লক সংস্কার ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের দাবিতে রবিবার সকালে নদীপাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ।
রবিবার (১৭ মে, ২০২৬) সকালে আউলিয়াপুর নদীভাঙন কবলিত এলাকায় ‘এলাকাবাসী ও সচেতন মহল’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এবার সেই আতঙ্ক সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতভিটার অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪৪নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার মূল ভবনের পাশ ঘেঁষে নদীর ভাঙন দ্রুত এগিয়ে আসছে। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে স্থাপন করা সিসি ব্লকের বেশ কয়েকটি অংশ নদীগর্ভে দেবে গেছে এবং অনেক ব্লক সরে গিয়ে বাঁধকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের ধস নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি শুধু আউলিয়াপুর নয়, পুরো দশমিনা উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। এছাড়া ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধটি এলাকার বাজার, ফসলি জমি এবং হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষার একমাত্র ভরসা। যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, তাহলে পুরো ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “প্রতি বছর নদী আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল কেড়ে নিচ্ছে। এবার আমাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা আর আতঙ্কে থাকতে চাই না। দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।” তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বিশেষভাবে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. নুরুল হক নুর, এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে গাইড ওয়াল নির্মাণ, নতুন সিসি ব্লক স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানান। একই সঙ্গে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আপদকালীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই কেবল অস্থায়ী মেরামত নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটা ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে লিভার রোগে অসহায় নূরজাহান, পাশে ‘প্রাউড অফ পটুয়াখালী’
দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন: ঝুঁকিতে স্কুল-মাদ্রাসা ও বেড়িবাঁধ, মানববন্ধনে এলাকাবাসী
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১নং রণগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ এবং বিস্তীর্ণ জনপদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দ্রুত সিসি ব্লক সংস্কার ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের দাবিতে রবিবার সকালে নদীপাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ।
রবিবার (১৭ মে, ২০২৬) সকালে আউলিয়াপুর নদীভাঙন কবলিত এলাকায় ‘এলাকাবাসী ও সচেতন মহল’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এবার সেই আতঙ্ক সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতভিটার অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪৪নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার মূল ভবনের পাশ ঘেঁষে নদীর ভাঙন দ্রুত এগিয়ে আসছে। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে স্থাপন করা সিসি ব্লকের বেশ কয়েকটি অংশ নদীগর্ভে দেবে গেছে এবং অনেক ব্লক সরে গিয়ে বাঁধকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের ধস নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি শুধু আউলিয়াপুর নয়, পুরো দশমিনা উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। এছাড়া ঝুঁকিতে থাকা বেড়িবাঁধটি এলাকার বাজার, ফসলি জমি এবং হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষার একমাত্র ভরসা। যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, তাহলে পুরো ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেঁতুলিয়া নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “প্রতি বছর নদী আমাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল কেড়ে নিচ্ছে। এবার আমাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা আর আতঙ্কে থাকতে চাই না। দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।” তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বিশেষভাবে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. নুরুল হক নুর, এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে গাইড ওয়াল নির্মাণ, নতুন সিসি ব্লক স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানান। একই সঙ্গে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আপদকালীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জোয়ারের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই কেবল অস্থায়ী মেরামত নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটা ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে লিভার রোগে অসহায় নূরজাহান, পাশে ‘প্রাউড অফ পটুয়াখালী’