নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আইটিইটি সদস্য সচিবের পদত্যাগ

আহাম্মেদ সাব্বির, বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন দ্যা ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)-এ আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য আইটিইটি নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) তিনি আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নির্বাচনী নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সাধারণ সদস্যরা।

পদত্যাগপত্রে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি আসন্ন আইটিইটি’র ১৫তম কাউন্সিল নির্বাচনে সভাপতি পদে অংশ নিতে আগ্রহী। তাই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক রাখতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে প্রায়ই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও আইটিইটি নির্বাচন ঘিরে এমন পদক্ষেপ একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক সদস্য মনে করছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নির্বাচন না করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সংগঠনের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

একই দিনে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন আসন্ন ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আগামী ২৬ জুন শুক্রবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্যানেল সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও প্রচারণা শুরু করেছে। টেক্সটাইল সেক্টরের তরুণ প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের মধ্যেও আইটিইটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দেবে, সেটি নিয়েই এখন সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই আমি সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই সংগঠনের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।” তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও টেক্সটাইল পরিবারের পাশে থাকতে চান এবং সবার ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তার বক্তব্যের পর অনেক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এদিকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক আইটিইটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের টেক্সটাইল খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় পেশাজীবী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আইটিইটি’র চতুর্দশ কেন্দ্রীয় পরিষদ পদত্যাগের মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সংগঠনের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, সদস্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হন প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আইটিইটি নির্বাচন সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরোও পড়ুন – একাত্তর সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে বুটেক্সে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আইটিইটি সদস্য সচিবের পদত্যাগ

মে ১৭, ২০২৬

আহাম্মেদ সাব্বির, বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের অন্যতম বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন দ্যা ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)-এ আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য আইটিইটি নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) তিনি আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে গৃহীত হয়। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নির্বাচনী নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সাধারণ সদস্যরা।

পদত্যাগপত্রে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি আসন্ন আইটিইটি’র ১৫তম কাউন্সিল নির্বাচনে সভাপতি পদে অংশ নিতে আগ্রহী। তাই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক রাখতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে প্রায়ই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও আইটিইটি নির্বাচন ঘিরে এমন পদক্ষেপ একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক সদস্য মনে করছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নির্বাচন না করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সংগঠনের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

একই দিনে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন আসন্ন ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে এনায়েত-সুমায়েল-নিক্সন প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আগামী ২৬ জুন শুক্রবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্যানেল সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও প্রচারণা শুরু করেছে। টেক্সটাইল সেক্টরের তরুণ প্রকৌশলী ও পেশাজীবীদের মধ্যেও আইটিইটি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দেবে, সেটি নিয়েই এখন সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই আমি সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই সংগঠনের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।” তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও টেক্সটাইল পরিবারের পাশে থাকতে চান এবং সবার ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তার বক্তব্যের পর অনেক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এদিকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক আইটিইটি নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের টেক্সটাইল খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় পেশাজীবী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আইটিইটি’র চতুর্দশ কেন্দ্রীয় পরিষদ পদত্যাগের মাধ্যমে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সংগঠনের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, সদস্যদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হন প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আইটিইটি নির্বাচন সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরোও পড়ুন – একাত্তর সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে বুটেক্সে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত