মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় আবারও মাদক চোরাচালানের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পৃথক দুটি বিশেষ বিজিবির অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও জেডি মদ জব্দ করেছে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রথম বিজিবির অভিযান পরিচালিত হয় রাজশাহীর দামকুড়া থানাধীন খোলাবনা এলাকায়। ১৭ মে রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে সোনাইকান্দি বিওপি’র একটি নিয়মিত টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবির কাছে তথ্য ছিল, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র কলা বাগানের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। তবে টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
পরে কলা বাগানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৭৯ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ট্যাবলেট অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় মাদকের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে চোরাকারবারী চক্র। উদ্ধার হওয়া ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেটগুলো দামকুড়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
একই রাতে আরেকটি বিজিবির অভিযান পরিচালিত হয় গোদাগাড়ী থানাধীন চরকানাপাড়া এলাকায়। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে সাহেবনগর বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়। বিজিবির কাছে খবর ছিল, ওই সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে একটি মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তথ্যের ভিত্তিতে সদস্যরা ধানক্ষেতে ফাঁদ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির চলাচল লক্ষ্য করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
এসময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত পালিয়ে যায় এবং সঙ্গে থাকা একটি বস্তা ফেলে রেখে যায়। পরে ওই বস্তা তল্লাশি করে ২৬ বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদক সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। উদ্ধার হওয়া জেডি মদ গোদাগাড়ী থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযানে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মহাপরিচালক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। এজন্য সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা না হলে তরুণ সমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও বিদেশি মদের অবৈধ প্রবেশ রোধে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে। এদিকে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আরোও পড়ুন – রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন: ইমাম মেহেদীর পরিবর্তনের অঙ্গীকার
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ট্যাপেনটাডল ও জেডি মদ জব্দ
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহীঃ
রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় আবারও মাদক চোরাচালানের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পৃথক দুটি বিশেষ বিজিবির অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও জেডি মদ জব্দ করেছে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রথম বিজিবির অভিযান পরিচালিত হয় রাজশাহীর দামকুড়া থানাধীন খোলাবনা এলাকায়। ১৭ মে রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে সোনাইকান্দি বিওপি’র একটি নিয়মিত টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবির কাছে তথ্য ছিল, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র কলা বাগানের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মাদক কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। তবে টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
পরে কলা বাগানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১৭৯ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব ট্যাবলেট অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় মাদকের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে চোরাকারবারী চক্র। উদ্ধার হওয়া ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেটগুলো দামকুড়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
একই রাতে আরেকটি বিজিবির অভিযান পরিচালিত হয় গোদাগাড়ী থানাধীন চরকানাপাড়া এলাকায়। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে সাহেবনগর বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়। বিজিবির কাছে খবর ছিল, ওই সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে একটি মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তথ্যের ভিত্তিতে সদস্যরা ধানক্ষেতে ফাঁদ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির চলাচল লক্ষ্য করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
এসময় চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত পালিয়ে যায় এবং সঙ্গে থাকা একটি বস্তা ফেলে রেখে যায়। পরে ওই বস্তা তল্লাশি করে ২৬ বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদক সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। উদ্ধার হওয়া জেডি মদ গোদাগাড়ী থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযানে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিজিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মহাপরিচালক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি। এজন্য সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা না হলে তরুণ সমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও বিদেশি মদের অবৈধ প্রবেশ রোধে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে। এদিকে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আরোও পড়ুন – রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন: ইমাম মেহেদীর পরিবর্তনের অঙ্গীকার