লালমনিরহাটে ৬ কিশোরের মৃত্যু মামলায় সাব্বির বিন শামস কারাগারে

সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৬ কিশোরের মৃত্যু নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক কূটনীতিক মোঃ সাব্বির বিন শামসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ মে) বিকেলে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মামলাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুনানিতে দাবি করেন যে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উল্লেখ করে, ৬ কিশোরের মৃত্যু নিয়ে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করে বলেন, সাব্বির বিন শামস একজন সাবেক কূটনীতিক হওয়ায় তিনি পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে নেই। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এর আগে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীমান্ত এলাকায় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং পরে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আটকের সময় তার কাছ থেকে একাধিক কূটনৈতিক পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

মোঃ সাব্বির বিন শামস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনের ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এবার আলোচিত মামলায় তার নাম জড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬ কিশোরের মৃত্যু ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং কীভাবে পুরো ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে বাড়ির ভেতর থেকে ৬ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ৬ কিশোরের মৃত্যু ঘিরে দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ

লালমনিরহাটে ৬ কিশোরের মৃত্যু মামলায় সাব্বির বিন শামস কারাগারে

মে ১৮, ২০২৬

সোহরাব হোসেন শিমুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৬ কিশোরের মৃত্যু নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক কূটনীতিক মোঃ সাব্বির বিন শামসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৭ মে) বিকেলে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মামলাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুনানিতে দাবি করেন যে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উল্লেখ করে, ৬ কিশোরের মৃত্যু নিয়ে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করে বলেন, সাব্বির বিন শামস একজন সাবেক কূটনীতিক হওয়ায় তিনি পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে নেই। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এর আগে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীমান্ত এলাকায় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং পরে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আটকের সময় তার কাছ থেকে একাধিক কূটনৈতিক পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

মোঃ সাব্বির বিন শামস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনের ‘মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এবার আলোচিত মামলায় তার নাম জড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬ কিশোরের মৃত্যু ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং কীভাবে পুরো ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে বাড়ির ভেতর থেকে ৬ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ৬ কিশোরের মৃত্যু ঘিরে দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ