কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা, পালানোর সময় ৩ যুবক আটক

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাজ্জুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তাজ্জুল ইসলাম স্থানীয় ফারুক হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাজ্জুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে মাছুয়াখালী গ্রামের একটি সড়কের পাশে তাজ্জুলকে একা পেয়ে রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮) তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় তাজ্জুল বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

​কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ধাওয়া দিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের শরীর ও কাপড়ে রক্তের দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন সাহসী যুবক তাদের ঘিরে ফেলে এবং গণধোলাই না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিনজনকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের এমন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সচেতন মহল।

​অন্যদিকে গুরুতর আহত তাজ্জুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই তাজ্জুলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

​কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা মামলার বিষয়ে কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

​পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, দুই বছরের সন্তান মাতৃহীন

কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা, পালানোর সময় ৩ যুবক আটক

মে ৩১, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাজ্জুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তাজ্জুল ইসলাম স্থানীয় ফারুক হাওলাদারের ছেলে। ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাজ্জুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে মাছুয়াখালী গ্রামের একটি সড়কের পাশে তাজ্জুলকে একা পেয়ে রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮) তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় তাজ্জুল বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

​কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ধাওয়া দিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের শরীর ও কাপড়ে রক্তের দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন সাহসী যুবক তাদের ঘিরে ফেলে এবং গণধোলাই না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিনজনকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের এমন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সচেতন মহল।

​অন্যদিকে গুরুতর আহত তাজ্জুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই তাজ্জুলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

​কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা মামলার বিষয়ে কলাপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

​পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে কলাপাড়ায় কিশোর হত্যা ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, দুই বছরের সন্তান মাতৃহীন