নাসিরনগরে পরকীয়া প্রেম নিয়ে বিষপান, পাঁচ সন্তানের জননীর আত্মহত্যার চেষ্টা

‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর,ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পরকীয়া প্রেমকে কেন্দ্র করে আমেনা খাতুন (৩১) নামে এক বিধবা নারীর বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় প্রেমিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আমেনা খাতুন উপজেলার একই গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় চার বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পাঁচ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমেনা। এ সময় স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী মো. জালালের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরকীয়া প্রেমের এই সম্পর্ক নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ধরমন্ডল চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. জালালের (২০) সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে আমেনার সম্পর্ক ছিল। তবে এক বছর আগে জালাল পাশের গ্রামের সোনিয়া নামে এক তরুণীকে বিয়ে করলে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর থেকেই আমেনা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন বলে জানান প্রতিবেশীরা। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার দুপুরে আমেনা জালালের বাড়িতে গিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরের সামনে থাকা সবজি ক্ষেতে ব্যবহৃত পোকামাকড়নাশক ‘সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি’ পান করেন। পরকীয়া প্রেম নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

ঘটনার পরপরই জালালের বোন ফারজানা পারভীন ও তার স্বামী শিপন মিয়া দ্রুত অসুস্থ আমেনাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ার মাত্রা বেশি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া মিলেছে।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম এবং সামাজিক চাপের কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এক নারী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এলাকাবাসীকে গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। সচেতন মহল বলছে, সম্পর্কজনিত বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতার কারণে সমাজে এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।

আরোও পড়ুন – নবীগঞ্জে তিন সন্তানের মা নগদ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কর্মচারীর সঙ্গে উধাও, স্বামী ও সন্তান দিশেহারা

নাসিরনগরে পরকীয়া প্রেম নিয়ে বিষপান, পাঁচ সন্তানের জননীর আত্মহত্যার চেষ্টা

মে ৩০, ২০২৬

‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর,ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পরকীয়া প্রেমকে কেন্দ্র করে আমেনা খাতুন (৩১) নামে এক বিধবা নারীর বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় প্রেমিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আমেনা খাতুন উপজেলার একই গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় চার বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই পাঁচ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমেনা। এ সময় স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী মো. জালালের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরকীয়া প্রেমের এই সম্পর্ক নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ধরমন্ডল চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. জালালের (২০) সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে আমেনার সম্পর্ক ছিল। তবে এক বছর আগে জালাল পাশের গ্রামের সোনিয়া নামে এক তরুণীকে বিয়ে করলে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর থেকেই আমেনা মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন বলে জানান প্রতিবেশীরা। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার দুপুরে আমেনা জালালের বাড়িতে গিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরের সামনে থাকা সবজি ক্ষেতে ব্যবহৃত পোকামাকড়নাশক ‘সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি’ পান করেন। পরকীয়া প্রেম নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

ঘটনার পরপরই জালালের বোন ফারজানা পারভীন ও তার স্বামী শিপন মিয়া দ্রুত অসুস্থ আমেনাকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ার মাত্রা বেশি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া মিলেছে।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম এবং সামাজিক চাপের কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পারিবারিক ও মানসিক সংকটের কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এক নারী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এলাকাবাসীকে গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। সচেতন মহল বলছে, সম্পর্কজনিত বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতার কারণে সমাজে এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।

আরোও পড়ুন – নবীগঞ্জে তিন সন্তানের মা নগদ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কর্মচারীর সঙ্গে উধাও, স্বামী ও সন্তান দিশেহারা