শ্রীনগরে আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জমি দখলের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আদালত ও ভূমি প্রশাসনের একাধিক আদেশ থাকার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র জোরপূর্বক জমি দখলে রাখছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাহ্রা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ভূমি বিরোধ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিলাড়ৈ মৌজার ১৮৩৬ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৪১৮ নম্বর দাগে মোট ২৭ শতক জমির বৈধ মালিকানা দীর্ঘদিন ধরে মনোরঞ্জন বনিকের পরিবার ভোগ করে আসছে। দলিল, আরএস রেকর্ড এবং ক্রয়সূত্রে জমিটি মনোরঞ্জন বনিকের নামে বৈধভাবে রেকর্ডভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মানবিক বিবেচনায় মনোরঞ্জন বনিক তার জমির একটি অংশে নারায়ণ বনিক ও তার পরিবারকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। তবে পরবর্তীতে এ সুযোগই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নারায়ণ বনিকের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র নরেন্দ্র নাথ বনিক ও দিলীপ বনিক জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পলাতক মো. ইকবাল হোসেন মাস্টারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জমিটি দখলে রাখার চেষ্টা চালান। ২০০৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্রে বিতর্কিতভাবে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা নাকি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন এবং তারা দখলীয় মালিক।

এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে নরেন্দ্র নাথ বনিক ও দিলীপ বনিক ২০০৫ সালে নামজারি ও জমাভাগের আবেদন করেন। বিষয়টি জানার পর প্রকৃত মালিক মনোরঞ্জন বনিকের পুত্র শুভ বনিক নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর শ্রীনগর উপজেলা ভূমি অফিস বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। সহকারী ভূমি কমিশনার ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের স্বাক্ষরিত আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম পক্ষ অর্থাৎ শুভ বনিক ও তার পরিবার আরএস রেকর্ডীয় মালিকের উত্তরাধিকারী এবং বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করলেও কোনো বৈধ দলিল, রেকর্ড বা প্রামাণ্য কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। ফলে ৭৮৩/২০০৪-২০০৫ নম্বর নামজারি ও জমাভাগ মামলাটি বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আদালত ও ভূমি অফিসের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জমি ছাড়েননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং পরবর্তী সময়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ২০১৩ সালে মুন্সিগঞ্জ আমলী আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তরা কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের পরও জমি দখল অব্যাহত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ ও আপসের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ একটি সালিশ বৈঠকের পর জমি ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো শুভ বনিকের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও জমি লিখে দেওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অভিযুক্ত উত্তম বনিকের কাছে জমির স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বরং মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শুভ বনিক বলেন, আদালত ও প্রশাসনের রায় থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো আমাদের জমি দখলে রেখেছে। আমরা আইনগতভাবে বৈধ মালিক হয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাই।

এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আদালতের রায় কার্যকর না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

শ্রীনগরে আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জমি দখলের অভিযোগ

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আদালত ও ভূমি প্রশাসনের একাধিক আদেশ থাকার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র জোরপূর্বক জমি দখলে রাখছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাহ্রা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ ভূমি বিরোধ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিলাড়ৈ মৌজার ১৮৩৬ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৪১৮ নম্বর দাগে মোট ২৭ শতক জমির বৈধ মালিকানা দীর্ঘদিন ধরে মনোরঞ্জন বনিকের পরিবার ভোগ করে আসছে। দলিল, আরএস রেকর্ড এবং ক্রয়সূত্রে জমিটি মনোরঞ্জন বনিকের নামে বৈধভাবে রেকর্ডভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মানবিক বিবেচনায় মনোরঞ্জন বনিক তার জমির একটি অংশে নারায়ণ বনিক ও তার পরিবারকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেন। তবে পরবর্তীতে এ সুযোগই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নারায়ণ বনিকের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র নরেন্দ্র নাথ বনিক ও দিলীপ বনিক জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পলাতক মো. ইকবাল হোসেন মাস্টারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জমিটি দখলে রাখার চেষ্টা চালান। ২০০৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্রে বিতর্কিতভাবে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা নাকি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করছেন এবং তারা দখলীয় মালিক।

এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে নরেন্দ্র নাথ বনিক ও দিলীপ বনিক ২০০৫ সালে নামজারি ও জমাভাগের আবেদন করেন। বিষয়টি জানার পর প্রকৃত মালিক মনোরঞ্জন বনিকের পুত্র শুভ বনিক নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর শ্রীনগর উপজেলা ভূমি অফিস বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। সহকারী ভূমি কমিশনার ব্যারিস্টার সজীব আহমেদের স্বাক্ষরিত আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, প্রথম পক্ষ অর্থাৎ শুভ বনিক ও তার পরিবার আরএস রেকর্ডীয় মালিকের উত্তরাধিকারী এবং বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা অর্জন করেছেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করলেও কোনো বৈধ দলিল, রেকর্ড বা প্রামাণ্য কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। ফলে ৭৮৩/২০০৪-২০০৫ নম্বর নামজারি ও জমাভাগ মামলাটি বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আদালত ও ভূমি অফিসের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জমি ছাড়েননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং পরবর্তী সময়ে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ২০১৩ সালে মুন্সিগঞ্জ আমলী আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তরা কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু মামলা প্রত্যাহারের পরও জমি দখল অব্যাহত রাখা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ ও আপসের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ একটি সালিশ বৈঠকের পর জমি ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো শুভ বনিকের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও জমি লিখে দেওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অভিযুক্ত উত্তম বনিকের কাছে জমির স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বরং মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি মীমাংসার অনুরোধ করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শুভ বনিক বলেন, আদালত ও প্রশাসনের রায় থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো আমাদের জমি দখলে রেখেছে। আমরা আইনগতভাবে বৈধ মালিক হয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাই।

এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আদালতের রায় কার্যকর না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।