ময়মনসিংহ ভালুকা প্রতিনিধি: জিসানঃ
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একাধিক ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা ছাড়া পড়ে থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে খোলা ড্রেনগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গন্ধ, চলাচলের বিঘ্ন এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
মহাসড়কের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের জন্য এই খোলা ড্রেনগুলো এক ধরনের অদৃশ্য ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্থায়ী আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।
রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে খোলা ড্রেনগুলো স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না। ফলে পথচারী কিংবা মোটরসাইকেল আরোহীরা হঠাৎ বিপদের মুখে পড়ছেন। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে গেলে ড্রেন ও রাস্তার সীমারেখা বোঝা যায় না, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, এমন অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
খোলা ড্রেনগুলোতে নিয়মিত ময়লা, পলিথিন ও আবর্জনা জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার ফলে ড্রেন থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে। মহাসড়ক সংলগ্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসে কাজ করা ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমে থাকা নোংরা পানি থেকে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে, ফলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি অবহেলা করলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তির কথাও উঠে এসেছে। দূরপাল্লার বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহন থেকে নামা যাত্রীরা অনেক সময় নিরাপদভাবে হাঁটার সুযোগ পাচ্ছেন না। খোলা ড্রেনের কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বা বিশ্রাম নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে করে মহাসড়কের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এই সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা বা উধাও অবস্থায় পড়ে আছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভালুকার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একটি ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়কের পাশে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সংস্কার কাজ করা হলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অথচ অবহেলার কারণে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে, যা উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে থাকা সব খোলা ড্রেনের ঢাকনা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হবে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবেশও স্বস্তি পাবে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই খোলা ড্রেনগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জনস্বার্থে এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ। ভালুকার মানুষ চায়, উন্নয়নের মহাসড়ক যেন অব্যবস্থাপনার কারণে আতঙ্কের পথে পরিণত না হয়।
ভালুকায় মহাসড়কের খোলা ড্রেনে চরম দুর্ভোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
ময়মনসিংহ ভালুকা প্রতিনিধি: জিসানঃ
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একাধিক ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা ছাড়া পড়ে থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে খোলা ড্রেনগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গন্ধ, চলাচলের বিঘ্ন এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
মহাসড়কের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের জন্য এই খোলা ড্রেনগুলো এক ধরনের অদৃশ্য ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে স্থায়ী আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।
রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে খোলা ড্রেনগুলো স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না। ফলে পথচারী কিংবা মোটরসাইকেল আরোহীরা হঠাৎ বিপদের মুখে পড়ছেন। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে গেলে ড্রেন ও রাস্তার সীমারেখা বোঝা যায় না, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, এমন অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
খোলা ড্রেনগুলোতে নিয়মিত ময়লা, পলিথিন ও আবর্জনা জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার ফলে ড্রেন থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা আশপাশের পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে। মহাসড়ক সংলগ্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসে কাজ করা ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। জমে থাকা নোংরা পানি থেকে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে, ফলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি অবহেলা করলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তির কথাও উঠে এসেছে। দূরপাল্লার বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহন থেকে নামা যাত্রীরা অনেক সময় নিরাপদভাবে হাঁটার সুযোগ পাচ্ছেন না। খোলা ড্রেনের কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো বা বিশ্রাম নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে করে মহাসড়কের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, এই সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা বা উধাও অবস্থায় পড়ে আছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভালুকার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একটি ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়কের পাশে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সংস্কার কাজ করা হলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অথচ অবহেলার কারণে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে, যা উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে থাকা সব খোলা ড্রেনের ঢাকনা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হবে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবেশও স্বস্তি পাবে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই খোলা ড্রেনগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জনস্বার্থে এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখনই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ। ভালুকার মানুষ চায়, উন্নয়নের মহাসড়ক যেন অব্যবস্থাপনার কারণে আতঙ্কের পথে পরিণত না হয়।