মাহফুজ আলম, সাইপ্রাস প্রতিনিধিঃ
১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত ঘটনা। গ্রিস-সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক দ্বীপটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এই ঘটনার ফলেই সাইপ্রাস দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা আজও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
পটভূমি
সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। পরে ১৯৬০ সালে দেশটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর দ্বীপে বসবাসকারী দুই প্রধান জনগোষ্ঠী—গ্রিক সাইপ্রিয়ট এবং তুর্কি সাইপ্রিয়টদের মধ্যে রাজনৈতিক ও জাতিগত উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে দ্বীপটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৯৭৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থান
১৯৭৪ সালের ১৫ জুলাই সাইপ্রাসে একটি সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই অভ্যুত্থান গ্রিসের সামরিক সরকারের সমর্থনে সংগঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাইপ্রাসকে গ্রিসের সঙ্গে একীভূত করা, যা “এনোসিস” নামে পরিচিত।
এই ঘটনার ফলে দ্বীপে রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
তুরস্কের সামরিক অভিযান
অভ্যুত্থানের কয়েকদিন পর, ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই তুরস্ক সাইপ্রাসে সামরিক অভিযান শুরু করে। তুরস্ক দাবি করে, দ্বীপে বসবাসরত তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামরিক অভিযানের সময় তুর্কি বাহিনী সমুদ্রপথে সৈন্য অবতরণ করায় এবং বিমান থেকে প্যারাট্রুপার নামানো হয়। পাশাপাশি ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে দ্বীপের উত্তর অংশে দ্রুত অগ্রসর হয়।
দ্বীপের বিভক্তি
এই অভিযানের পর সাইপ্রাস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দ্বীপের দক্ষিণ অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে উত্তর অংশে তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক প্রশাসন গড়ে ওঠে।
১৯৮৩ সালে উত্তর অংশে “নর্দার্ন সাইপ্রাস তুর্কি প্রজাতন্ত্র” ঘোষণা করা হয়। তবে তুরস্ক ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে সাইপ্রাস দ্বীপটি এখনও বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। দ্বীপের মাঝখানে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন রয়েছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে আলাদা করে রেখেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহল এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
আরোও পড়ুন – নোতো উপদ্বীপে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২২২, ইশিকাওয়ায় জরুরি অবস্থা
১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের সামরিক অভিযান: দ্বীপ বিভক্তির ইতিহাস
মাহফুজ আলম, সাইপ্রাস প্রতিনিধিঃ
১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত ঘটনা। গ্রিস-সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক দ্বীপটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এই ঘটনার ফলেই সাইপ্রাস দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা আজও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
পটভূমি
সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। পরে ১৯৬০ সালে দেশটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর দ্বীপে বসবাসকারী দুই প্রধান জনগোষ্ঠী—গ্রিক সাইপ্রিয়ট এবং তুর্কি সাইপ্রিয়টদের মধ্যে রাজনৈতিক ও জাতিগত উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে দ্বীপটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৯৭৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থান
১৯৭৪ সালের ১৫ জুলাই সাইপ্রাসে একটি সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই অভ্যুত্থান গ্রিসের সামরিক সরকারের সমর্থনে সংগঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাইপ্রাসকে গ্রিসের সঙ্গে একীভূত করা, যা “এনোসিস” নামে পরিচিত।
এই ঘটনার ফলে দ্বীপে রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
তুরস্কের সামরিক অভিযান
অভ্যুত্থানের কয়েকদিন পর, ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই তুরস্ক সাইপ্রাসে সামরিক অভিযান শুরু করে। তুরস্ক দাবি করে, দ্বীপে বসবাসরত তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামরিক অভিযানের সময় তুর্কি বাহিনী সমুদ্রপথে সৈন্য অবতরণ করায় এবং বিমান থেকে প্যারাট্রুপার নামানো হয়। পাশাপাশি ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে দ্বীপের উত্তর অংশে দ্রুত অগ্রসর হয়।
দ্বীপের বিভক্তি
এই অভিযানের পর সাইপ্রাস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দ্বীপের দক্ষিণ অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে উত্তর অংশে তুর্কি সাইপ্রিয়টদের নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক প্রশাসন গড়ে ওঠে।
১৯৮৩ সালে উত্তর অংশে “নর্দার্ন সাইপ্রাস তুর্কি প্রজাতন্ত্র” ঘোষণা করা হয়। তবে তুরস্ক ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে সাইপ্রাস দ্বীপটি এখনও বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। দ্বীপের মাঝখানে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন রয়েছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে আলাদা করে রেখেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহল এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
আরোও পড়ুন – নোতো উপদ্বীপে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২২২, ইশিকাওয়ায় জরুরি অবস্থা