সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
পুষ্টি বৈষম্য দূর করে একটি সুস্থ ও স্বনির্ভর জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচি দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই এবং জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা কার্যক্রম। তিনি বিশেষভাবে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনও অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, যা শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তারা জানান, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর মতো উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব অপুষ্টিজনিত রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পুষ্টি সচেতনতা কেবল শহরকেন্দ্রিক থাকলে চলবে না; গ্রামীণ এলাকাতেও সমানভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ চলাকালে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে পুষ্টি পরামর্শ, সচেতনতামূলক সেমিনার, স্কুলভিত্তিক ক্যাম্পেইন এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও দেশের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে অপুষ্টি হ্রাসে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।
সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গণসচেতনতা র্যালি, মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত রোগ কমানো এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলাই জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর মূল লক্ষ্য।
আরোও পড়ুন – অভিন্ন স্কুল ড্রেস চালু: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-ড্রেস দেবে সরকার
সুস্থ জীবন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পুষ্টির বিকল্প নেই, শুরু হলো জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ
সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
পুষ্টি বৈষম্য দূর করে একটি সুস্থ ও স্বনির্ভর জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচি দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই এবং জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা কার্যক্রম। তিনি বিশেষভাবে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনও অপুষ্টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, যা শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তারা জানান, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর মতো উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব অপুষ্টিজনিত রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পুষ্টি সচেতনতা কেবল শহরকেন্দ্রিক থাকলে চলবে না; গ্রামীণ এলাকাতেও সমানভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ চলাকালে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে পুষ্টি পরামর্শ, সচেতনতামূলক সেমিনার, স্কুলভিত্তিক ক্যাম্পেইন এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও দেশের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে অপুষ্টি হ্রাসে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।
সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গণসচেতনতা র্যালি, মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত রোগ কমানো এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলাই জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-এর মূল লক্ষ্য।
আরোও পড়ুন – অভিন্ন স্কুল ড্রেস চালু: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-ড্রেস দেবে সরকার