আহাম্মেদ সাব্বির, বুটেক্স প্রতিনিধিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সাংবাদিকদের ওপর হামলা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে আয়োজিত হয় এক মানববন্ধন কর্মসূচি, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঢাবিতে সংঘটিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা হলেও সেখানে যদি সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা ঘটে, তাহলে তা একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বুলেটিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শাহেদ তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা মানেই সত্যকে দমন করার অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সমিতির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আল জাবের রাফি বলেন, “ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা একটি বর্বরোচিত ঘটনা। এটি শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি রাতুল সাহা বলেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার আওতায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাবির সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। অতীতে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। তারা দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও
ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুটেক্সে মানববন্ধন | সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি
আহাম্মেদ সাব্বির, বুটেক্স প্রতিনিধিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সাংবাদিকদের ওপর হামলা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে আয়োজিত হয় এক মানববন্ধন কর্মসূচি, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঢাবিতে সংঘটিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা হলেও সেখানে যদি সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা ঘটে, তাহলে তা একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বুলেটিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শাহেদ তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা মানেই সত্যকে দমন করার অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সমিতির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আল জাবের রাফি বলেন, “ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা একটি বর্বরোচিত ঘটনা। এটি শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি রাতুল সাহা বলেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার আওতায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাবির সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। অতীতে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। তারা দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও