লৌহজংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ, প্রশংসায় স্থানীয়রা

মো. সুবিন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে ঘিরে মানবিক উদ্যোগের নজির দেখা গেছে। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, জুস, বিস্কুট, কেক ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার হলদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এ পানি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়ে।

পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে অনেক পরীক্ষার্থীকে পানি পান করতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েও ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন সংগ্রহ করেন। প্রচণ্ড গরমে এমন পানি বিতরণ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। একই সঙ্গে বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকরাও বিশুদ্ধ পানি, জুস ও হালকা খাবার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।

এই কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ছিলেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্বস্তির কথা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গরমের দিনে দীর্ঘ সময় পরীক্ষার চাপ সামলাতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সহায়তা দিতে পানি বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।

কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ একাধিক অভিভাবক জানান, সকাল থেকে রোদে বসে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। সন্তানদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই না খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন পাওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করেন। একজন অভিভাবক বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, আমাদের কথাও ভেবেছেন আয়োজকরা। এমন পানি বিতরণ কার্যক্রম অন্যদেরও অনুসরণ করা উচিত। এতে সামাজিক সৌহার্দ্য বাড়ে।

পরীক্ষা শেষে বের হয়ে অনেক শিক্ষার্থী আয়োজকদের ধন্যবাদ জানায়। কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, প্রচণ্ড গরমে পরীক্ষার আগে পানি ও হালকা খাবার পাওয়ায় তারা অনেকটা সতেজ অনুভব করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে এমন ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা কেন্দ্রিক কার্যক্রমে এ ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে। লৌহজংয়ের এই পানি বিতরণ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসার দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম এসএসসি কেন্দ্রে ছাত্রদলের মানবিক সহায়তা | চেয়ার, পানি ও স্যালাইন বিতরণ

লৌহজংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ, প্রশংসায় স্থানীয়রা

এপ্রিল ২৮, ২০২৬

মো. সুবিন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে ঘিরে মানবিক উদ্যোগের নজির দেখা গেছে। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, জুস, বিস্কুট, কেক ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার হলদিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এ পানি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়ে।

পরীক্ষা শুরুর অনেক আগেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে অনেক পরীক্ষার্থীকে পানি পান করতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েও ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন সংগ্রহ করেন। প্রচণ্ড গরমে এমন পানি বিতরণ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। একই সঙ্গে বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকরাও বিশুদ্ধ পানি, জুস ও হালকা খাবার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।

এই কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ছিলেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, পরীক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্বস্তির কথা বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গরমের দিনে দীর্ঘ সময় পরীক্ষার চাপ সামলাতে শিক্ষার্থীদের কিছুটা সহায়তা দিতে পানি বিতরণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।

কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ একাধিক অভিভাবক জানান, সকাল থেকে রোদে বসে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। সন্তানদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই না খেয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন পাওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করেন। একজন অভিভাবক বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, আমাদের কথাও ভেবেছেন আয়োজকরা। এমন পানি বিতরণ কার্যক্রম অন্যদেরও অনুসরণ করা উচিত। এতে সামাজিক সৌহার্দ্য বাড়ে।

পরীক্ষা শেষে বের হয়ে অনেক শিক্ষার্থী আয়োজকদের ধন্যবাদ জানায়। কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, প্রচণ্ড গরমে পরীক্ষার আগে পানি ও হালকা খাবার পাওয়ায় তারা অনেকটা সতেজ অনুভব করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে সমাজে এমন ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা কেন্দ্রিক কার্যক্রমে এ ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে। লৌহজংয়ের এই পানি বিতরণ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় প্রশংসার দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম এসএসসি কেন্দ্রে ছাত্রদলের মানবিক সহায়তা | চেয়ার, পানি ও স্যালাইন বিতরণ