কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ আঘাত হানে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। টেকনাফ ঝড় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায়। ঝড়ের তীব্র দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বহু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের কাঁচা ও টিনশেড ঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক পরিবার ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফ ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই রাস্তাঘাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান ব্যবসায়ীরা। অনেক এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিছু গ্রামীণ সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা জানান, টেকনাফ ঝড় চলাকালে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। অনেক মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ ঘাটে ফিরতে হিমশিম খায়। কিছু জেলে তাদের জাল ও ছোট ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকার কয়েকটি ঘের ও চাষাবাদেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে সবজি ক্ষেত, কলাবাগান ও মৌসুমি ফসলের জমিতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনের জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, টেকনাফ ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। যেসব পরিবার বসতঘর হারিয়েছে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজও শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল ঘরে বসবাসকারী পরিবার, জেলে ও কৃষকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টেকনাফ ঝড় দেখিয়ে দিল, অল্প সময়ের দুর্যোগও কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং স্থায়ী দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
টেকনাফে কালবৈশাখী তাণ্ডব: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জনদুর্ভোগ চরমে
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ আঘাত হানে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। টেকনাফ ঝড় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায়। ঝড়ের তীব্র দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে বহু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের কাঁচা ও টিনশেড ঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক পরিবার ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফ ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই রাস্তাঘাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান ব্যবসায়ীরা। অনেক এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিছু গ্রামীণ সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সন্ধ্যার পর থেকে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা জানান, টেকনাফ ঝড় চলাকালে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। অনেক মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ ঘাটে ফিরতে হিমশিম খায়। কিছু জেলে তাদের জাল ও ছোট ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং এলাকার কয়েকটি ঘের ও চাষাবাদেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে সবজি ক্ষেত, কলাবাগান ও মৌসুমি ফসলের জমিতে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনের জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, টেকনাফ ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। যেসব পরিবার বসতঘর হারিয়েছে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হতে পারে। এছাড়া সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজও শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল ঘরে বসবাসকারী পরিবার, জেলে ও কৃষকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টেকনাফ ঝড় দেখিয়ে দিল, অল্প সময়ের দুর্যোগও কত বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং স্থায়ী দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি