মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মধ্যম মোহরা সার্বজনীন শ্রীশ্রী মা মগধেশ্বরী মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইদিনব্যাপী চান্দগাঁও মন্দির উৎসব। গত ৩০ এপ্রিল ও ১ মে বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত সমবেত হন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গীতাপাঠ, পূজা, ধর্মীয় সংগীত, মহানামযজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণে মুখর ছিল পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। উৎসবকে ঘিরে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
উৎসবের প্রথম দিনে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে চান্দগাঁও মন্দির উৎসব-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর গীতাপাঠ, ধর্মীয় সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করে বংশী শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দীপঙ্কর দেবনাথ। পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণে ধর্মীয় চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই দিনে গঙ্গা আহ্বান ও মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।
এদিন প্রধান পৌরহিত্য করেন শ্যামল চক্রবর্ত্তী এবং সহযোগিতায় ছিলেন বৈষ্ণব প্রবর রূপন চক্রবর্ত্তী। শুভ অধিবাস কীর্তন পরিচালনা করেন জয় মহাপ্রভু সম্প্রদায়ের রূপন আচার্য্য ও মাখম চক্রবর্ত্তী। ভক্তদের অংশগ্রহণে মন্দির চত্বর ভরে ওঠে হরিনাম সংকীর্তনের সুরে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় সাজানো মন্দিরে তৈরি হয় নান্দনিক পরিবেশ। আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও চান্দগাঁও মন্দির উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিন ১ মে সকালে শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞের শুভারম্ভ করা হয়। পরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ পরিবেশন করেন পণ্ডিত অমল চক্রবর্ত্তী। মায়ের পূজায় পৌরহিত্য করেন পণ্ডিত সাগর চক্রবর্ত্তী এবং পূজার সংকল্প গ্রহণ করেন অভি চৌধুরী (সাজু)। এরপর রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তদের দীর্ঘ সারিতে প্রসাদ গ্রহণের দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নূর হোসেন মামুন, চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দীন ও রাজীব বিশ্বাস। তারা আয়োজকদের এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধীর কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চৌধুরী (বিপ্লব), রনধীর চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় চান্দগাঁও মন্দির উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
দুইদিনব্যাপী এ মহতী অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ভক্তরা জানান, এমন আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতিরও প্রতীক। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উৎসব ঘিরে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করেছেন। আয়োজকরা আগামী বছর আরও বড় পরিসরে চান্দগাঁও মন্দির উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরোও পড়ুন – শ্রমিক সমাজের প্রকৃত মুক্তি ইসলামী শ্রমনীতিতে: বিশ্বনাথে মে দিবস সমাবেশ
চান্দগাঁও মন্দির উৎসব: মা মগধেশ্বরী মন্দিরে দুইদিনব্যাপী বাৎসরিক আয়োজন
মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মধ্যম মোহরা সার্বজনীন শ্রীশ্রী মা মগধেশ্বরী মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইদিনব্যাপী চান্দগাঁও মন্দির উৎসব। গত ৩০ এপ্রিল ও ১ মে বৃহস্পতি ও শুক্রবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত সমবেত হন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গীতাপাঠ, পূজা, ধর্মীয় সংগীত, মহানামযজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণে মুখর ছিল পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। উৎসবকে ঘিরে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
উৎসবের প্রথম দিনে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে চান্দগাঁও মন্দির উৎসব-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর গীতাপাঠ, ধর্মীয় সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করে বংশী শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দীপঙ্কর দেবনাথ। পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণে ধর্মীয় চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই দিনে গঙ্গা আহ্বান ও মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।
এদিন প্রধান পৌরহিত্য করেন শ্যামল চক্রবর্ত্তী এবং সহযোগিতায় ছিলেন বৈষ্ণব প্রবর রূপন চক্রবর্ত্তী। শুভ অধিবাস কীর্তন পরিচালনা করেন জয় মহাপ্রভু সম্প্রদায়ের রূপন আচার্য্য ও মাখম চক্রবর্ত্তী। ভক্তদের অংশগ্রহণে মন্দির চত্বর ভরে ওঠে হরিনাম সংকীর্তনের সুরে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় সাজানো মন্দিরে তৈরি হয় নান্দনিক পরিবেশ। আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও চান্দগাঁও মন্দির উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিন ১ মে সকালে শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞের শুভারম্ভ করা হয়। পরে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ পরিবেশন করেন পণ্ডিত অমল চক্রবর্ত্তী। মায়ের পূজায় পৌরহিত্য করেন পণ্ডিত সাগর চক্রবর্ত্তী এবং পূজার সংকল্প গ্রহণ করেন অভি চৌধুরী (সাজু)। এরপর রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তদের দীর্ঘ সারিতে প্রসাদ গ্রহণের দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নূর হোসেন মামুন, চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক কাউন্সিলর নাজিম উদ্দীন ও রাজীব বিশ্বাস। তারা আয়োজকদের এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধীর কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চৌধুরী (বিপ্লব), রনধীর চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় চান্দগাঁও মন্দির উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
দুইদিনব্যাপী এ মহতী অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ভক্তরা জানান, এমন আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতিরও প্রতীক। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উৎসব ঘিরে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করেছেন। আয়োজকরা আগামী বছর আরও বড় পরিসরে চান্দগাঁও মন্দির উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরোও পড়ুন – শ্রমিক সমাজের প্রকৃত মুক্তি ইসলামী শ্রমনীতিতে: বিশ্বনাথে মে দিবস সমাবেশ