বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই জমি বিরোধে হামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলার ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন ঢালী (৪৫) এবং তার প্রতিবেশী মোঃ সোবহান হাওলাদার (৬০)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এমনকি বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং বর্তমানে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এই জমি বিরোধে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সোবহান হাওলাদার তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রবিন ঢালীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। হামলার সময় টিনশেড বাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে পড়েন এবং আশপাশের লোকজনের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় রবিন ঢালী বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোবহান হাওলাদারসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি (নং-৩, তারিখ-০৫ মে ২০২৬) আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪/৫ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এই জমি বিরোধে হামলা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করে। পরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে এই জমি বিরোধে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “আইনের বাইরে কেউ থাকবে না। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।” একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, এটি একটি জমি বিরোধে হামলা এবং এর বাইরে অন্য কোনো গুজব বা অপপ্রচার বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে গুলিতে যুবক নিহত | চিতলমারীতে চাঞ্চল্য
শরণখোলায় জমি বিরোধে হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর; গ্রেফতার ২
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই জমি বিরোধে হামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলার ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন ঢালী (৪৫) এবং তার প্রতিবেশী মোঃ সোবহান হাওলাদার (৬০)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এমনকি বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং বর্তমানে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এই জমি বিরোধে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সোবহান হাওলাদার তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রবিন ঢালীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। হামলার সময় টিনশেড বাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের দরজা-জানালা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে পড়েন এবং আশপাশের লোকজনের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় রবিন ঢালী বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোবহান হাওলাদারসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি (নং-৩, তারিখ-০৫ মে ২০২৬) আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪/৫ ধারায় রুজু করা হয়েছে। এই জমি বিরোধে হামলা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করে। পরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে এই জমি বিরোধে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “আইনের বাইরে কেউ থাকবে না। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।” একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, এটি একটি জমি বিরোধে হামলা এবং এর বাইরে অন্য কোনো গুজব বা অপপ্রচার বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে গুলিতে যুবক নিহত | চিতলমারীতে চাঞ্চল্য