দোহারের কাটাখালিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর পাশে এমপি আবু আশফাক

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার উপজেলার কাটাখালি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যেই একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সহায়-সম্বল ছাই করে দেয়। প্রবাসী আবুল খায়েরের টিনের ঘরসহ ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এই কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এমপি খন্দকার আবু আশফাক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তিনি পরিবারের বর্তমান অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের সবকিছু হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই তাদের সংকটে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় এমপি আবু আশফাক স্থানীয় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে। একটি পরিবার যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তার এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড-এর পর জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক উপস্থিতি দুর্গত পরিবারের জন্য বড় সাহস হয়ে উঠেছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শামীমা রাহিম শিলা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, প্রবাসী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটির জন্য এই ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আগুনে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড-এর ঘটনায় এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ভোটের হিসাব মনে করালেন আবু আশফাক | দোহারে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন

দোহারের কাটাখালিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর পাশে এমপি আবু আশফাক

মে ১৫, ২০২৬

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার উপজেলার কাটাখালি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যেই একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সহায়-সম্বল ছাই করে দেয়। প্রবাসী আবুল খায়েরের টিনের ঘরসহ ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এই কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এমপি খন্দকার আবু আশফাক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। তিনি পরিবারের বর্তমান অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের সবকিছু হারিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই তাদের সংকটে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় এমপি আবু আশফাক স্থানীয় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে হবে। একটি পরিবার যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তার এই বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী মনে করছেন, কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড-এর পর জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক উপস্থিতি দুর্গত পরিবারের জন্য বড় সাহস হয়ে উঠেছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শামীমা রাহিম শিলা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, প্রবাসী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারটির জন্য এই ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আগুনে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে কাটাখালি অগ্নিকাণ্ড-এর ঘটনায় এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ভোটের হিসাব মনে করালেন আবু আশফাক | দোহারে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন