ফেসবুক পরিচয় থেকে বিয়ে, চীন থেকে কুড়িগ্রামে এলেন আন হুং ওয়েই

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক ভালোবাসার গল্প শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিয়েতে। ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে মোরশেদা বেগমকে বিয়ে করেছেন চীনের যুবক আন হুং ওয়েই। ব্যতিক্রমধর্মী এই চীনা যুবক বিয়ে ঘিরে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামছেই না। গ্রামের মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন নবদম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘটনাটি এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। সেই সময় ফেসবুকের মাধ্যমে চীনের নাগরিক আন হুং ওয়েই’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও ধীরে ধীরে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একসময় দুজনই বুঝতে পারেন, তারা একে অপরকে ছাড়া ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারছেন না। পরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি।

ভালোবাসার টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসেন আন হুং ওয়েই। পরে দেশীয় রীতি ও পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। এই চীনা যুবক বিয়ে এখন ফুলবাড়ীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আগে সিনেমা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ঘটনা দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের এলাকায় এমন আন্তর্জাতিক প্রেম ও বিয়ের ঘটনা এই প্রথম। ফলে কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন নবদম্পতির বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার বিদেশি জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে নবদম্পতি মোরশেদার গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসিমুখ আর ইশারার মাধ্যমে স্থানীয়দের সঙ্গে সহজেই মিশে যাচ্ছেন আন হুং ওয়েই। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ জানান, চীনা নাগরিক হলেও তার আচরণে কোনো অহংকার নেই। বরং গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব সহজভাবে কথা বলছেন এবং স্থানীয় খাবারও উপভোগ করছেন। অনেকেই বলছেন, এই চীনা যুবক বিয়ে শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি দুই ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতার একটি অনন্য উদাহরণ।

মোরশেদা বেগম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই আমাদের পরিচয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। একসময় আমরা সিদ্ধান্ত নিই, একসঙ্গে জীবন কাটাবো। সে আমাকে ভালোবেসে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। পরিবারের সবাইও আমাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।” তিনি আরও জানান, শুরুতে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা অবাক হলেও পরে আন হুং ওয়েই’র ব্যবহার ও আন্তরিকতায় সবাই মুগ্ধ হন। বর্তমানে দুই পরিবারের মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

চীনা নাগরিক আন হুং ওয়েই বলেন, “বাংলাদেশে এসে আমি খুব আনন্দিত। এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। গ্রামের পরিবেশ আমার খুব ভালো লেগেছে। মোরশেদাকে বিয়ে করে আমি সত্যিই সুখী।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও খাবার সম্পর্কে জানার আগ্রহ তার আগে থেকেই ছিল। এখন তিনি বাংলা ভাষাও কিছুটা শেখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা অনেকের মন জয় করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। আগে যেখানে ভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন ছিল, সেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সহজেই দূরত্ব কমে আসছে। এই চীনা যুবক বিয়ে সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। গ্রামের প্রবীণরাও বলছেন, ভালোবাসা ভাষা বা দেশের সীমান্ত মানে না। আন্তরিকতা থাকলে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষও সুখে সংসার করতে পারে।

ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা ও ভিন্ন দেশের দুই মানুষের এই ভালোবাসার গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এই ঘটনাকে ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ব এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে, যেখানে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। সব মিলিয়ে ফুলবাড়ীর এই আন্তর্জাতিক প্রেম ও বিয়ের ঘটনা এখন স্থানীয়দের কাছে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে নূরে মদিনা একাডেমিতে এখন ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী

ফেসবুক পরিচয় থেকে বিয়ে, চীন থেকে কুড়িগ্রামে এলেন আন হুং ওয়েই

মে ১৮, ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এক ভালোবাসার গল্প শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিয়েতে। ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে মোরশেদা বেগমকে বিয়ে করেছেন চীনের যুবক আন হুং ওয়েই। ব্যতিক্রমধর্মী এই চীনা যুবক বিয়ে ঘিরে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামছেই না। গ্রামের মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন নবদম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘটনাটি এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোরশেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। সেই সময় ফেসবুকের মাধ্যমে চীনের নাগরিক আন হুং ওয়েই’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও ধীরে ধীরে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। একসময় দুজনই বুঝতে পারেন, তারা একে অপরকে ছাড়া ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারছেন না। পরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে উভয় পরিবার ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি।

ভালোবাসার টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসেন আন হুং ওয়েই। পরে দেশীয় রীতি ও পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে। এই চীনা যুবক বিয়ে এখন ফুলবাড়ীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আগে সিনেমা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ঘটনা দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের এলাকায় এমন আন্তর্জাতিক প্রেম ও বিয়ের ঘটনা এই প্রথম। ফলে কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন নবদম্পতির বাড়িতে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার বিদেশি জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে নবদম্পতি মোরশেদার গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসিমুখ আর ইশারার মাধ্যমে স্থানীয়দের সঙ্গে সহজেই মিশে যাচ্ছেন আন হুং ওয়েই। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ জানান, চীনা নাগরিক হলেও তার আচরণে কোনো অহংকার নেই। বরং গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব সহজভাবে কথা বলছেন এবং স্থানীয় খাবারও উপভোগ করছেন। অনেকেই বলছেন, এই চীনা যুবক বিয়ে শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি দুই ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতার একটি অনন্য উদাহরণ।

মোরশেদা বেগম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই আমাদের পরিচয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। একসময় আমরা সিদ্ধান্ত নিই, একসঙ্গে জীবন কাটাবো। সে আমাকে ভালোবেসে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। পরিবারের সবাইও আমাদের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।” তিনি আরও জানান, শুরুতে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা অবাক হলেও পরে আন হুং ওয়েই’র ব্যবহার ও আন্তরিকতায় সবাই মুগ্ধ হন। বর্তমানে দুই পরিবারের মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

চীনা নাগরিক আন হুং ওয়েই বলেন, “বাংলাদেশে এসে আমি খুব আনন্দিত। এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। গ্রামের পরিবেশ আমার খুব ভালো লেগেছে। মোরশেদাকে বিয়ে করে আমি সত্যিই সুখী।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও খাবার সম্পর্কে জানার আগ্রহ তার আগে থেকেই ছিল। এখন তিনি বাংলা ভাষাও কিছুটা শেখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা অনেকের মন জয় করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। আগে যেখানে ভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন ছিল, সেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সহজেই দূরত্ব কমে আসছে। এই চীনা যুবক বিয়ে সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। গ্রামের প্রবীণরাও বলছেন, ভালোবাসা ভাষা বা দেশের সীমান্ত মানে না। আন্তরিকতা থাকলে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষও সুখে সংসার করতে পারে।

ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা ও ভিন্ন দেশের দুই মানুষের এই ভালোবাসার গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এই ঘটনাকে ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ব এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে, যেখানে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। সব মিলিয়ে ফুলবাড়ীর এই আন্তর্জাতিক প্রেম ও বিয়ের ঘটনা এখন স্থানীয়দের কাছে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে নূরে মদিনা একাডেমিতে এখন ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী