মোস্তফা কামাল জয়, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুইজনকে আটক করা হয় এবং ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। বিশেষ করে থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব ফেরদৌস আলমের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার বিষয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযান চলাকালে উপজেলার কালিয়ানীকান্দা গ্রামের এনামুল হক পিয়াল (৩৭) এবং উত্তর মনিকুড়া গ্রামের মোঃ হারুন (৩৫)-কে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মোবাইল কোর্টের আওতায় চিলাবিল, জয়িতা-হালুয়াঘাট এলাকা, গরু বাজার সংলগ্ন স্থান, শুটকি মহাল সংলগ্ন এলাকা এবং মনিকুড়া টানাব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সীমান্তঘেঁষা ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও মাদক বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। এটি ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাদক নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে এবং মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মাদকমুক্ত হালুয়াঘাট গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মাদক ব্যবসা কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সফলভাবে অব্যাহত থাকলে উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরোও পড়ুন – গোয়াতলা কংশ নদীর বেইলি ব্রিজ ধস, বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
হালুয়াঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান: আটক ২, উদ্ধার ৫০ লিটার চোলাই মদ
মোস্তফা কামাল জয়, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২১ জুন) উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে দুইজনকে আটক করা হয় এবং ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাট উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। বিশেষ করে থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব ফেরদৌস আলমের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার বিষয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযান চলাকালে উপজেলার কালিয়ানীকান্দা গ্রামের এনামুল হক পিয়াল (৩৭) এবং উত্তর মনিকুড়া গ্রামের মোঃ হারুন (৩৫)-কে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মোবাইল কোর্টের আওতায় চিলাবিল, জয়িতা-হালুয়াঘাট এলাকা, গরু বাজার সংলগ্ন স্থান, শুটকি মহাল সংলগ্ন এলাকা এবং মনিকুড়া টানাব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জনসম্মুখে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সীমান্তঘেঁষা ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও মাদক বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। এটি ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাদক নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে এবং মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মাদকমুক্ত হালুয়াঘাট গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মাদক ব্যবসা কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান সফলভাবে অব্যাহত থাকলে উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরোও পড়ুন – গোয়াতলা কংশ নদীর বেইলি ব্রিজ ধস, বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন