মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ জনের জেল-জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর বার্তা

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পরিচালিত মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এ মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এর অংশ হিসেবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে প্রাথমিক শুনানি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে উপজেলার নেপা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আসলাম (২৫) এবং নেপা কুল্লা গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে শফিউল্লাহ (৩০)-কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১)(১৬) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত মনে করেন, তাদের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সমাজে মাদক বিস্তারে ভূমিকা রাখছিল এবং তা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।

এদিকে একই মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এ মাদক সেবনের দায়ে নেপা বাজারপাড়া গ্রামের শরিফত মন্ডলের ছেলে মিলন মিয়া এবং নস্তি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে নাজমুলকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে সমাজে মাদকের চাহিদা কমে আসে।

জানা গেছে, মহেশপুর থানার এসআই বনি আমিন অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের আটক করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং মাদক কারবারিদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মহেশপুর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ও পেশকার আহসান কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে এবং মাদক ব্যবসা কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ জনের জেল-জরিমানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর বার্তা

জুন ২১, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পরিচালিত মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এ মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এর অংশ হিসেবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালতে প্রাথমিক শুনানি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে উপজেলার নেপা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আসলাম (২৫) এবং নেপা কুল্লা গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে শফিউল্লাহ (৩০)-কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১)(১৬) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত মনে করেন, তাদের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সমাজে মাদক বিস্তারে ভূমিকা রাখছিল এবং তা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।

এদিকে একই মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান-এ মাদক সেবনের দায়ে নেপা বাজারপাড়া গ্রামের শরিফত মন্ডলের ছেলে মিলন মিয়া এবং নস্তি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে নাজমুলকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে সমাজে মাদকের চাহিদা কমে আসে।

জানা গেছে, মহেশপুর থানার এসআই বনি আমিন অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের আটক করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিছু এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং মাদক কারবারিদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মহেশপুর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ও পেশকার আহসান কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মহেশপুরে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে এবং মাদক ব্যবসা কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ