মো. মোশারফ হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি তাদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের এই উদ্যোগ মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত দশমিনা গড়ার প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লভ এলাকার একটি দাখিল মাদ্রাসার মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা। ‘আলোর দিশারী মানব কল্যাণ সংগঠন’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, জীবনে সফল হতে হলে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। পথে বাধা কিংবা ব্যর্থতা এলেও হতাশ হয়ে থেমে যাওয়া যাবে না; বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি বাবা-মা, শিক্ষক ও সমাজের প্রত্যাশা পূরণেও সচেষ্ট থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় অনেক মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের যথাযথ পরিচর্যা, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ প্রয়োজন। আর্থিক কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতিভা যেন বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। মেধাবীদের স্বীকৃতি দিলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য আলোর দিশারী মানব কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক সমস্যা প্রসঙ্গে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এসব অপরাধের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত দশমিনা গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহাব মৃধা এবং সঞ্চালনা করেন হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো. শাহ আলম মৃধা, মো. মোস্তফা কামাল ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম রনি। এ ছাড়া বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুল্লাহ পঞ্চায়েত, জালাল মেলকারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব উঠে আসে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ১৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এভাবে মোট ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ
মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত দশমিনা গড়ার অঙ্গীকার ইউএনওর
মো. মোশারফ হোসেন, দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি তাদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের এই উদ্যোগ মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত দশমিনা গড়ার প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লভ এলাকার একটি দাখিল মাদ্রাসার মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা। ‘আলোর দিশারী মানব কল্যাণ সংগঠন’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, জীবনে সফল হতে হলে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। পথে বাধা কিংবা ব্যর্থতা এলেও হতাশ হয়ে থেমে যাওয়া যাবে না; বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি বাবা-মা, শিক্ষক ও সমাজের প্রত্যাশা পূরণেও সচেষ্ট থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় অনেক মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের যথাযথ পরিচর্যা, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ প্রয়োজন। আর্থিক কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতিভা যেন বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। মেধাবীদের স্বীকৃতি দিলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য আলোর দিশারী মানব কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক সমস্যা প্রসঙ্গে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এসব অপরাধের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত দশমিনা গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহাব মৃধা এবং সঞ্চালনা করেন হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো. শাহ আলম মৃধা, মো. মোস্তফা কামাল ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম রনি। এ ছাড়া বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুল্লাহ পঞ্চায়েত, জালাল মেলকারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব উঠে আসে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ১৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এভাবে মোট ২১ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তাও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ