তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে: এমপি মিলন

২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর বাটার মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে এমপি মিলন বলেন, বিএনপি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করে। দলের নেতা তারেক রহমান দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে দলীয় কার্যক্রম, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি, নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সমাবেশে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, ওই দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনেককে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু বিকেল ৩টার পর লুটপাটের রাজত্ব কায়েমের উদ্দেশ্যে অনেকেই রাস্তায় নেমেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কিছু ব্যক্তি এখন বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে যাঁদের উদ্দেশে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং বক্তব্যের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

পলাতক শেখ হাসিনা ও তাঁর অনুসারীদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, জনগণ ইতোমধ্যে তাঁদের ‘জাতীয় বেইমান’ ও ‘মুনাফেক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় তিনি এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, আওয়ামী লীগের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সমালোচনামূলক অবস্থান প্রতিফলিত হয়। এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সমাবেশ আয়োজনের প্রসঙ্গে এমপি মিলন মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে অসুস্থ বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চান। দলীয় কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অসুস্থ নেতার সুস্থতা কামনায় তাঁর এই বক্তব্য সমাবেশের অন্যান্য আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্ব পায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের চিত্রও দেখা যায়।

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনির সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তাঁদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় দলীয় কার্যক্রম, সাংগঠনিক উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে আসে।

এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা ও শফিকুল ইসলাম শাফিকসহ থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও অনুষ্ঠানের সাংগঠনিক গুরুত্ব বাড়ায়। তবে উপস্থিতির কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

এর আগে রাজশাহী নগরীর সদর হাসপাতাল মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল। সমাবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের বিষয়ে এমপি মিলন-এর মন্তব্য এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদল নেতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে: এমপি মিলন

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর বাটার মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে এমপি মিলন বলেন, বিএনপি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করে। দলের নেতা তারেক রহমান দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে দলীয় কার্যক্রম, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের বিষয়টি উঠে আসে। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি, নির্বাচন আয়োজনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সমাবেশে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, ওই দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনেককে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু বিকেল ৩টার পর লুটপাটের রাজত্ব কায়েমের উদ্দেশ্যে অনেকেই রাস্তায় নেমেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কিছু ব্যক্তি এখন বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে যাঁদের উদ্দেশে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন, তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং বক্তব্যের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

পলাতক শেখ হাসিনা ও তাঁর অনুসারীদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, জনগণ ইতোমধ্যে তাঁদের ‘জাতীয় বেইমান’ ও ‘মুনাফেক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় তিনি এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, আওয়ামী লীগের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সমালোচনামূলক অবস্থান প্রতিফলিত হয়। এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সমাবেশ আয়োজনের প্রসঙ্গে এমপি মিলন মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে অসুস্থ বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চান। দলীয় কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অসুস্থ নেতার সুস্থতা কামনায় তাঁর এই বক্তব্য সমাবেশের অন্যান্য আলোচনার পাশাপাশি গুরুত্ব পায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের চিত্রও দেখা যায়।

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনির সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তাঁদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় দলীয় কার্যক্রম, সাংগঠনিক উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে আসে।

এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা ও শফিকুল ইসলাম শাফিকসহ থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও অনুষ্ঠানের সাংগঠনিক গুরুত্ব বাড়ায়। তবে উপস্থিতির কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

এর আগে রাজশাহী নগরীর সদর হাসপাতাল মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটার মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল। সমাবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের বিষয়ে এমপি মিলন-এর মন্তব্য এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদল নেতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া

⇧