কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর, মহাসড়কে যানজট

৩৩

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মৌচাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ‘সাদমা টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহনচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সকালে মৌচাক এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে সড়কে অবস্থান নেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বোনাসের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি দল সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট দাবির পরিমাণ, কোন কোন কারখানার কতজন শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে আন্দোলনের পেছনের সব কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভ চলাকালে ‘সাদমা টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কারখানাটির শ্রমিক মো. সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কারখানার সামনে এসে ভাঙচুর শুরু করেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কারখানার কোনো যন্ত্রপাতি বা মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় লেন বন্ধ করে অবস্থান নেওয়ায় সড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তবে যানজট কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল, কতসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়েছিল এবং কখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আলোচনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ তলব করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছিল। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল, তাদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবি ঘিরে এ ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় শ্রমিকদের বক্তব্যের পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর পরিচয় এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং শ্রমিক-মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি, শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।

আরোও পড়ুন – চার দেশের রাষ্ট্রদূতের নজর কাড়ল আনসার-ভিডিপির কুটিরশিল্প

কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর, মহাসড়কে যানজট

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
৩৩

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মৌচাক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ‘সাদমা টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহনচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সকালে মৌচাক এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে সড়কে অবস্থান নেন। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বোনাসের দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি দল সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট দাবির পরিমাণ, কোন কোন কারখানার কতজন শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে আন্দোলনের পেছনের সব কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভ চলাকালে ‘সাদমা টেক্সটাইল’ নামের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কারখানাটির শ্রমিক মো. সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কারখানার সামনে এসে ভাঙচুর শুরু করেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কারখানার কোনো যন্ত্রপাতি বা মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় লেন বন্ধ করে অবস্থান নেওয়ায় সড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তবে যানজট কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল, কতসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়েছিল এবং কখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আলোচনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ তলব করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছিল। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল, তাদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবি ঘিরে এ ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় শ্রমিকদের বক্তব্যের পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর পরিচয় এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে আন্দোলনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং শ্রমিক-মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি, শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরা এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হবে।

আরোও পড়ুন – চার দেশের রাষ্ট্রদূতের নজর কাড়ল আনসার-ভিডিপির কুটিরশিল্প

⇧