এইচ এম লোকমান, শরণখোলা প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাসংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সাপের দংশনে সবুর খলিফা (৪৬) নামে এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আহত সবুর খলিফা শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পাস নিয়ে তিনি বনে প্রবেশ করেন। এরপর শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সাপের দংশনের শিকার হন। সুন্দরবনের নদী-খাল ও আশপাশের বনাঞ্চলে মাছ আহরণ করতে গিয়ে জেলেদের বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। তবে ঠিক কোন প্রজাতির সাপ তাকে দংশন করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত জেলের মহাজন ও মৎস্য আড়তদার মো. আফিকুল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ভোর ৫টার দিকে শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সবুর খলিফাকে সাপে দংশন করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মোবাইল ফোনে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বন বিভাগের সহায়তা চান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালান। সুন্দরবনের ভেতরে দুর্গম খাল থেকে অসুস্থ জেলেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা ছিল তখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। বনরক্ষীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আমির হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সাপের দংশনে আহত ওই জেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মীরা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত জেলেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগে আহত জেলেকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা এলাকার অনেক মানুষের জীবিকা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাছ আহরণ করতে গিয়ে জেলেদের নদী, খাল ও বনাঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। এ সময় সাপের দংশনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। সবুর খলিফার ঘটনায় বন বিভাগের উদ্ধার তৎপরতা এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার পর সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের সতর্ক থাকা, বন বিভাগের নিয়ম মেনে চলা এবং বিপদের সময় দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাপের দংশনের সন্দেহ হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ক্ষতস্থানে কাটা দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা শক্ত করে বাঁধার মতো প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। সবুর খলিফার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও তার পরবর্তী চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সুন্দরবনে কর্মরত জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরোও পড়ুন – লামায় অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান
শরণখোলা উপজেলাসংলগ্ন সুন্দরবনে সাপের দংশনে জেলে আহত
এইচ এম লোকমান, শরণখোলা প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাসংলগ্ন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সাপের দংশনে সবুর খলিফা (৪৬) নামে এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সুন্দরবনের খালে মাছ ধরতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আহত সবুর খলিফা শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার তাগিদে মাছ ধরতে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পাস নিয়ে তিনি বনে প্রবেশ করেন। এরপর শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সাপের দংশনের শিকার হন। সুন্দরবনের নদী-খাল ও আশপাশের বনাঞ্চলে মাছ আহরণ করতে গিয়ে জেলেদের বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। তবে ঠিক কোন প্রজাতির সাপ তাকে দংশন করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত জেলের মহাজন ও মৎস্য আড়তদার মো. আফিকুল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ভোর ৫টার দিকে শৌলা খালে মাছ ধরার সময় সবুর খলিফাকে সাপে দংশন করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মোবাইল ফোনে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বন বিভাগের সহায়তা চান। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালান। সুন্দরবনের ভেতরে দুর্গম খাল থেকে অসুস্থ জেলেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা ছিল তখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। বনরক্ষীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আমির হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সাপের দংশনে আহত ওই জেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মীরা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত জেলেকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগে আহত জেলেকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা এলাকার অনেক মানুষের জীবিকা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাছ আহরণ করতে গিয়ে জেলেদের নদী, খাল ও বনাঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। এ সময় সাপের দংশনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। সবুর খলিফার ঘটনায় বন বিভাগের উদ্ধার তৎপরতা এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার পর সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের সতর্ক থাকা, বন বিভাগের নিয়ম মেনে চলা এবং বিপদের সময় দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাপের দংশনের সন্দেহ হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ক্ষতস্থানে কাটা দেওয়া, বিষ চুষে বের করার চেষ্টা কিংবা শক্ত করে বাঁধার মতো প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। সবুর খলিফার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও তার পরবর্তী চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সুন্দরবনে কর্মরত জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরোও পড়ুন – লামায় অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান