শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের তিন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা—দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে বর্তমানে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংকট জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। জ্বালানি সংকট, রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং একসঙ্গে আঘাত হানায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অস্থির হয়ে উঠেছে। খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, ব্যবসায়ী এবং চাকুরিজীবী—সব শ্রেণির মানুষই এই সংকটের চাপে নাভিশ্বাস তুলছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়ছে এবং জনমনে বাড়ছে হতাশা।
জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা এই ত্রিমুখী সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ না থাকায় ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। অনেক স্টেশন থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে যে মজুত শেষ। যেসব স্টেশনে সীমিত তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বোতল হাতে দূর-দূরান্তে ঘুরে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
এদিকে রান্নার গ্যাসের বাজারেও বিরাজ করছে অস্থিরতা, যা ত্রিমুখী সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম চাপে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে চাইলেও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে আবারও পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর লাকড়ির চুলায় ফিরে যাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও এই অঞ্চলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা পুরো ত্রিমুখী সংকটকে আরও গভীর করেছে। দিনে ও রাতে একাধিকবার লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তীব্র গরমে জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি ভোল্টেজের ওঠানামায় ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।
এই ত্রিমুখী সংকট কৃষি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। ফলে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষকদের অনেকেই জানিয়েছেন, রাতে সেচ কার্যক্রম শুরু করলেও মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থির করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একযোগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরোও পড়ুন – মশক নিধন কার্যক্রমে নতুন মিশন: পরিচ্ছন্নতায় জোর দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে ত্রিমুখী সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের তিন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা—দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে বর্তমানে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংকট জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। জ্বালানি সংকট, রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং একসঙ্গে আঘাত হানায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অস্থির হয়ে উঠেছে। খেটে খাওয়া মানুষ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, ব্যবসায়ী এবং চাকুরিজীবী—সব শ্রেণির মানুষই এই সংকটের চাপে নাভিশ্বাস তুলছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়ছে এবং জনমনে বাড়ছে হতাশা।
জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা এই ত্রিমুখী সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দোহার ও নবাবগঞ্জের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেলের সরবরাহ না থাকায় ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। অনেক স্টেশন থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছে যে মজুত শেষ। যেসব স্টেশনে সীমিত তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বোতল হাতে দূর-দূরান্তে ঘুরে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
এদিকে রান্নার গ্যাসের বাজারেও বিরাজ করছে অস্থিরতা, যা ত্রিমুখী সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম চাপে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে চাইলেও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ বাধ্য হয়ে আবারও পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর লাকড়ির চুলায় ফিরে যাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও এই অঞ্চলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা পুরো ত্রিমুখী সংকটকে আরও গভীর করেছে। দিনে ও রাতে একাধিকবার লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তীব্র গরমে জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি ভোল্টেজের ওঠানামায় ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।
এই ত্রিমুখী সংকট কৃষি খাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। ফলে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষকদের অনেকেই জানিয়েছেন, রাতে সেচ কার্যক্রম শুরু করলেও মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থির করে তুলছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একযোগে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরোও পড়ুন – মশক নিধন কার্যক্রমে নতুন মিশন: পরিচ্ছন্নতায় জোর দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন