সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর উপলক্ষে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানো এবং অপুষ্টি দূর করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, সবাই মিলে গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ।” তিনি আরও বলেন, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা প্রতিটি পরিবারকে সুস্থ জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম ও মৌসুমি ফলমূল রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। তারা জানান, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু অপুষ্টিতে ভুগে না থাকে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ পুষ্টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, নবজাতক শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে এবং কমপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধই শিশুর জন্য সর্বোত্তম খাদ্য। এরপর ধীরে ধীরে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার শিশুকে খাওয়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর উদযাপনের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও তেলযুক্ত খাবার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে এনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে খাবারের আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বক্তারা বলেন, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এছাড়া বক্তারা শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিশুর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ওজন ও উচ্চতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদেরও নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত, যাতে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন পারভেজ, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. রুদ্র কুমার, ডা. ইমরান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দীপা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে সালমা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সম্মিলিতভাবে একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে মহেশপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র্যালি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মাদকসহ বাংলাদেশি ৩ যুবককে বিএসএফের আটক
মহেশপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত | সচেতনতায় জোর
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর উপলক্ষে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানো এবং অপুষ্টি দূর করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সভায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, সবাই মিলে গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ।” তিনি আরও বলেন, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা প্রতিটি পরিবারকে সুস্থ জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম ও মৌসুমি ফলমূল রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। তারা জানান, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু অপুষ্টিতে ভুগে না থাকে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ পুষ্টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, নবজাতক শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে এবং কমপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধই শিশুর জন্য সর্বোত্তম খাদ্য। এরপর ধীরে ধীরে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার শিশুকে খাওয়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর উদযাপনের মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও তেলযুক্ত খাবার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফাস্টফুড ও ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে এনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে খাবারের আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বক্তারা বলেন, পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এছাড়া বক্তারা শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিশুর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ওজন ও উচ্চতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদেরও নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত, যাতে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন পারভেজ, ডা. হাবিবুর রহমান, ডা. রুদ্র কুমার, ডা. ইমরান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দীপা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে সালমা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সম্মিলিতভাবে একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে মহেশপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র্যালি, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে পুষ্টি সপ্তাহ মহেশপুর কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মাদকসহ বাংলাদেশি ৩ যুবককে বিএসএফের আটক