তিস্তা ভাঙন রোধে পলাশপুর রক্ষার দাবি: মানববন্ধন ও সমাবেশে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

মোঃ সাইফুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

তিস্তা ভাঙন পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রাম রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান তিস্তা ভাঙন এর কারণে বসতভিটা, আবাদি জমি ও জীবিকা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন। শনিবার দুপুরে জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে তিস্তা নদীর তীরবর্তী পলাশপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে চলমান তিস্তা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে গ্রামটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বক্তারা বলেন, পলাশপুর গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এই তিস্তা ভাঙন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বড় হুমকি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিস্তা নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতি বছর তিস্তা ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে এবং হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা এই সংকটকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্য বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পাঁচটি জেলায় প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রবাহপথে বিশেষ করে কুড়িগ্রাম এলাকায় তিস্তা ভাঙন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। এতে করে প্রায় দুই লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা দাবি করেন, পলাশপুর গ্রাম রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে তিস্তা ভাঙন এর কারণে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে এবং অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে অনেকে জীবিকার জন্য অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বক্তারা বলেন, পলাশপুর রক্ষায় অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ ও নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বছরের পর বছর ধরে তিস্তা ভাঙন এর সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পলাশপুর গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে সুমন হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

তিস্তা ভাঙন রোধে পলাশপুর রক্ষার দাবি: মানববন্ধন ও সমাবেশে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান

এপ্রিল ২৫, ২০২৬

মোঃ সাইফুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম

তিস্তা ভাঙন পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রাম রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান তিস্তা ভাঙন এর কারণে বসতভিটা, আবাদি জমি ও জীবিকা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন। শনিবার দুপুরে জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে তিস্তা নদীর তীরবর্তী পলাশপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে চলমান তিস্তা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে গ্রামটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বক্তারা বলেন, পলাশপুর গ্রাম বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এই তিস্তা ভাঙন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বড় হুমকি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিস্তা নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতি বছর তিস্তা ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে এবং হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা এই সংকটকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্য বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের পাঁচটি জেলায় প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রবাহপথে বিশেষ করে কুড়িগ্রাম এলাকায় তিস্তা ভাঙন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। এতে করে প্রায় দুই লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা দাবি করেন, পলাশপুর গ্রাম রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বলা হয়, বিগত কয়েক বছরে তিস্তা ভাঙন এর কারণে শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে এবং অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কৃষিজমি হারিয়ে অনেকে জীবিকার জন্য অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বক্তারা বলেন, পলাশপুর রক্ষায় অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ ও নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, তারা বছরের পর বছর ধরে তিস্তা ভাঙন এর সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পলাশপুর গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরোও পড়ুন – লালমনিরহাটে সুমন হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম