কালিয়াকৈরে রেল জমি দখল, উচ্ছেদের পর ফের ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা মাটিকাটা রেললাইন বটতলা এলাকায় আবারও রেল জমি দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে একই স্থানে নতুন করে টিনশেড ঘর তোলা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পত্তি বেদখলের পাশাপাশি রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, প্রকাশ্যে এই রেল জমি দখল চললেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

শনিবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের এক পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে নতুন টিনশেড কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে সেখানে প্রায় ২০০টির মতো রুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং কিছু ঘরে ইতোমধ্যে বসবাসও শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে রেল জমি দখল করে এসব ঘর তৈরি করছে। তারা জানান, দিনের বেলায় নির্মাণসামগ্রী আনা হয় এবং রাতের মধ্যেই দ্রুত কাজ শেষ করা হয়, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। তবে উচ্ছেদের পর কিছুদিন এলাকা ফাঁকা থাকলেও পরে আবার প্রভাবশালী একটি মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের নেতৃত্বে ধাপে ধাপে জমি ভাগ করে বিক্রি ও দখল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানার মতো বেচাকেনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নতুন করে রেল জমি দখল হওয়ায় পুরোনো উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ ফকির ৮টি, আক্কাস ১২টি, খলিল ভান্ডারী ৯টি, সাইফুল ৯টি, চিত্তরঞ্জন ৪টি ও আবু বক্কর ২টিসহ একাধিক ব্যক্তির নামে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেফাজ ডাক্তার নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে আরও অন্তত ২০টি কক্ষের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব রেল জমি দখল চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খলিল ভান্ডারী বলেন, তিনি জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জায়গা কিনেছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি রেলওয়ের জমি কেনাবেচার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। তাই এমন দাবি আরও বড় অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকা স্থায়ী বস্তিতে পরিণত হতে পারে এবং রেল চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।

রেলওয়ে উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন – চিতলমারীতে দখল-লুটপাট: নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

কালিয়াকৈরে রেল জমি দখল, উচ্ছেদের পর ফের ঘর নির্মাণের অভিযোগ

মে ৩, ২০২৬

মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চন্দ্রা মাটিকাটা রেললাইন বটতলা এলাকায় আবারও রেল জমি দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে একই স্থানে নতুন করে টিনশেড ঘর তোলা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পত্তি বেদখলের পাশাপাশি রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, প্রকাশ্যে এই রেল জমি দখল চললেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

শনিবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের এক পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে নতুন টিনশেড কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে সেখানে প্রায় ২০০টির মতো রুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং কিছু ঘরে ইতোমধ্যে বসবাসও শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে রেল জমি দখল করে এসব ঘর তৈরি করছে। তারা জানান, দিনের বেলায় নির্মাণসামগ্রী আনা হয় এবং রাতের মধ্যেই দ্রুত কাজ শেষ করা হয়, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। তবে উচ্ছেদের পর কিছুদিন এলাকা ফাঁকা থাকলেও পরে আবার প্রভাবশালী একটি মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের নেতৃত্বে ধাপে ধাপে জমি ভাগ করে বিক্রি ও দখল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানার মতো বেচাকেনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নতুন করে রেল জমি দখল হওয়ায় পুরোনো উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফরহাদ ফকির ৮টি, আক্কাস ১২টি, খলিল ভান্ডারী ৯টি, সাইফুল ৯টি, চিত্তরঞ্জন ৪টি ও আবু বক্কর ২টিসহ একাধিক ব্যক্তির নামে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া রেফাজ ডাক্তার নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে আরও অন্তত ২০টি কক্ষের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব রেল জমি দখল চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত খলিল ভান্ডারী বলেন, তিনি জিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জায়গা কিনেছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি রেলওয়ের জমি কেনাবেচার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। তাই এমন দাবি আরও বড় অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো এলাকা স্থায়ী বস্তিতে পরিণত হতে পারে এবং রেল চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।

রেলওয়ে উপসহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, রেলওয়ের সরকারি জমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন – চিতলমারীতে দখল-লুটপাট: নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ