আইভি আক্তার মারিয়া :জাককানইবি প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। রবিবার (৩ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বর্ণিল ক্যানভাস, নান্দনিক নকশা, আধুনিক গ্রাফিক্স ও সৃজনশীল প্রিন্টমেকিংয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও শিল্পচর্চার বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এবং পরে বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে শিক্ষার্থীদের কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, চারুকলা শুধু ছবি আঁকার বিষয় নয়, এটি সমাজের মনন, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি জানান, সৃজনশীল তরুণদের উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিল্পচর্চা তরুণ সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শেকড়কে ধরে রাখা জরুরি। নতুন প্রজন্ম যদি শিল্পের মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী তৈরি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আত্মপ্রকাশের বড় একটি মঞ্চ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। বক্তারা বলেন, শিল্পচর্চা মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে এবং সমাজে সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টি করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের নতুন সৃষ্টিশীল কাজের অনুপ্রেরণা দেয়।
এবারের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী-তে ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রিন্টমেকিং এই তিনটি স্ট্রিমে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। ড্রইং এন্ড পেইন্টিং বিভাগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার পেয়েছেন সিনথিয়া আক্তার শান্তা, এস এম সুলতান পুরস্কার পেয়েছেন অরিন সাহা। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন বিশাল পাল এবং সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন সৌভিক ঢালী ও স্বপ্নীল পাল। এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান।

গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে শিল্পী কামরুল হাসান পুরস্কার পেয়েছেন তাশফিয়া সামিহা সুপ্তি এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন হাসিব সিদ্দিকী। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন ইসরাত জাহান অনন্যা এবং সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন মুন্নি চক্রবর্তী। অন্যদিকে প্রিন্টমেকিং বিভাগে শিল্পী শফিউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন জুবায়ের আহমেদ এবং শিল্পী মোহাম্মদ কিবরীয়া পুরস্কার পেয়েছেন ফারিয়া কবীর। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন রিপন রায়। সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন থোয়াই অং সিং মারমা ও তাসনিম আরা।
এছাড়া সেরা মাধ্যম (পেন্সিল) পুরস্কার পেয়েছেন সামং মারমা এবং মাধ্যম (পেন্সিল) সম্মাননা পেয়েছেন মো. সাদমান হাবিব সামি। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের শতাধিক শিল্পকর্ম স্থান পায় বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি কাজেই ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, ইতিহাস, সমসাময়িক সমাজচিত্র ও কল্পনার অনন্য প্রকাশ। দর্শনার্থীরা জানান, এত সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন শিল্পী তৈরির পথ আরও প্রসারিত হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সৃজনশীল চর্চার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশেও ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ। চারুকলা বিভাগের এই আয়োজন ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আরোও পড়ুন – দোহারে ব্রি ধান ১০১ সফল প্রদর্শনী, কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে
বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬: রঙ-তুলিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় রঙিন
আইভি আক্তার মারিয়া :জাককানইবি প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। রবিবার (৩ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বর্ণিল ক্যানভাস, নান্দনিক নকশা, আধুনিক গ্রাফিক্স ও সৃজনশীল প্রিন্টমেকিংয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও শিল্পচর্চার বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। এ আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এবং পরে বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে শিক্ষার্থীদের কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, চারুকলা শুধু ছবি আঁকার বিষয় নয়, এটি সমাজের মনন, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তিনি জানান, সৃজনশীল তরুণদের উৎসাহিত করতে এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিল্পচর্চা তরুণ সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শেকড়কে ধরে রাখা জরুরি। নতুন প্রজন্ম যদি শিল্পের মাধ্যমে বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা থেকে শিক্ষা নিতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী তৈরি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আত্মপ্রকাশের বড় একটি মঞ্চ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। বক্তারা বলেন, শিল্পচর্চা মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে এবং সমাজে সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টি করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের নতুন সৃষ্টিশীল কাজের অনুপ্রেরণা দেয়।
এবারের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী-তে ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন এবং প্রিন্টমেকিং এই তিনটি স্ট্রিমে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। ড্রইং এন্ড পেইন্টিং বিভাগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার পেয়েছেন সিনথিয়া আক্তার শান্তা, এস এম সুলতান পুরস্কার পেয়েছেন অরিন সাহা। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন বিশাল পাল এবং সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন সৌভিক ঢালী ও স্বপ্নীল পাল। এই পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান।

গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে শিল্পী কামরুল হাসান পুরস্কার পেয়েছেন তাশফিয়া সামিহা সুপ্তি এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন হাসিব সিদ্দিকী। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন ইসরাত জাহান অনন্যা এবং সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন মুন্নি চক্রবর্তী। অন্যদিকে প্রিন্টমেকিং বিভাগে শিল্পী শফিউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন জুবায়ের আহমেদ এবং শিল্পী মোহাম্মদ কিবরীয়া পুরস্কার পেয়েছেন ফারিয়া কবীর। নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন রিপন রায়। সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন থোয়াই অং সিং মারমা ও তাসনিম আরা।
এছাড়া সেরা মাধ্যম (পেন্সিল) পুরস্কার পেয়েছেন সামং মারমা এবং মাধ্যম (পেন্সিল) সম্মাননা পেয়েছেন মো. সাদমান হাবিব সামি। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের শতাধিক শিল্পকর্ম স্থান পায় বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি কাজেই ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, ইতিহাস, সমসাময়িক সমাজচিত্র ও কল্পনার অনন্য প্রকাশ। দর্শনার্থীরা জানান, এত সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন শিল্পী তৈরির পথ আরও প্রসারিত হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সৃজনশীল চর্চার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশেও ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ। চারুকলা বিভাগের এই আয়োজন ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আরোও পড়ুন – দোহারে ব্রি ধান ১০১ সফল প্রদর্শনী, কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে