নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রামঃ

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বাস্তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভোটারদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বক্তব্যের শুরুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোটাধিকার শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক। সেই অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেটে সাধারণ জনগণের স্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সুবিধা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেটের মাধ্যমে প্রকারান্তরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম ও মুগ্ধের মতো আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের আদর্শ ও প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন বাজেটে নেই। এ কারণে তিনি বাজেটের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রশাসনিক বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে এমন কিছু ব্যক্তি অবস্থান করছেন, যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে বেশি মনোযোগী। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো বিতর্কিত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান হত্যাকাণ্ড ও উত্তেজনা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেদিন সীমান্তে অন্যায় হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে, সেদিনই দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর ও টেকসই কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষভাগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের রাজনৈতিক দল কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ এখন পরিবর্তন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায়। সেই লক্ষ্য অর্জনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে অবাধ নির্বাচন, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১

নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জুন ১৪, ২০২৬

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রামঃ

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বাস্তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভোটারদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বক্তব্যের শুরুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোটাধিকার শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক। সেই অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেটে সাধারণ জনগণের স্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সুবিধা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেটের মাধ্যমে প্রকারান্তরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম ও মুগ্ধের মতো আত্মত্যাগী ব্যক্তিদের আদর্শ ও প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন বাজেটে নেই। এ কারণে তিনি বাজেটের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রশাসনিক বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে এমন কিছু ব্যক্তি অবস্থান করছেন, যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে বেশি মনোযোগী। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো বিতর্কিত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান হত্যাকাণ্ড ও উত্তেজনা নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি বলেন, সীমান্তে কোনো নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেদিন সীমান্তে অন্যায় হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে, সেদিনই দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর ও টেকসই কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষভাগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের রাজনৈতিক দল কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ এখন পরিবর্তন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায়। সেই লক্ষ্য অর্জনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে অবাধ নির্বাচন, সুশাসন এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১